স্থানীয় সময় গতকাল (শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি) নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের উপ-মুখপাত্র ফারহান হক যুক্তরাষ্ট্রের এ বিতর্কিত প্রস্থান প্রক্রিয়ার জটিলতাগুলো তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন, যদিও ট্রাম্প প্রশাসন ডব্লিউএইচও থেকে সরে দাঁড়ানোর চিঠি দিয়েছে, যা ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা, কিন্তু আর্থিক বাধ্যবাধকতা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ প্রস্থান আইনি পূর্ণতা পাচ্ছে না। আমানতকারী হিসেবে জাতিসংঘ মহাসচিব এখনো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে এ সংক্রান্ত কোনো নিশ্চয়তা পাননি।
এর পাশাপাশি প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয়বারের মতো নাম প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সময়সীমা আগামী ২৭ জানুয়ারি ঘনিয়ে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকটের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের এ ‘একলা চলো’ নীতিকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছে বিশ্ব সংস্থা।
আরও পড়ুন:
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি থেকে এমন পিছু হটা সম্মিলিত বৈশ্বিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
এদিকে শুধু ডব্লিউএইচও বা প্যারিস চুক্তিই নয়, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের আরও প্রায় ডজনখানেক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ও কর্মসূচি থেকে তাদের সংশ্লিষ্টতা কমিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে ডব্লিউএইচও-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা থেকে সরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে আর্থিক বকেয়া ও আইনি নোটিশের শর্তগুলো এখন জাতিসংঘ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বড় ধরনের টানাপড়েনের সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি বৃদ্ধি নিয়েও ব্রিফিংয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। জাতিসংঘ মনে করে, এ উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে যেকোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত পুরো অঞ্চলকে এক অপূরণীয় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহাসচিব সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম এবং আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।





