ডব্লিউএইচও থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিল যুক্তরাষ্ট্র

ডব্লিউএইচও ও যুক্তরাষ্ট্র
ডব্লিউএইচও ও যুক্তরাষ্ট্র | ছবি: সংগৃহীত
0

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় আজ (শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি) সকালে স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী আদেশের (ই.ও. ১৪১৫৫) প্রেক্ষিতে এ ঐতিহাসিক পদক্ষেপ কার্যকর করা হয়েছে।

স্টেট সেক্রেটারি মার্ক রুবিও এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা মন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, কোভিড-১৯ মহামারীর সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ব্যর্থতা এবং সময়মতো সঠিক তথ্য শেয়ার না করার কারণে আমেরিকানদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ডব্লিউএইচও তার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে একটি রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে, যা মূলত আমেরিকার স্বার্থবিরোধী দেশগুলোর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

আরও পড়ুন:

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এখন থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের অর্থায়ন এবং কর্মী নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এমনকি বিদায়লগ্নেও সংস্থাটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তিক্ততা প্রকাশ পেয়েছে।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ডব্লিউএইচও সদর দপ্তরের সামনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাটি তারা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং উল্টো ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। আমেরিকান প্রশাসন এ ঘটনাকে দেশটির জন্য চরম অপমানজনক হিসেবে অভিহিত করেছে।

তবে সংস্থাটি ছাড়লেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নেতৃত্ব বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ওয়াশিংটন। বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে নয়, বরং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক ও ফলভিত্তিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে কাজ করবে। মহামারীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত আমেরিকার নাগরিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং প্রবীণদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে স্টেট ডিপার্টমেন্ট উল্লেখ করেছে।

বিশ্বের বৃহত্তম অর্থ দাতা হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্থানের ফলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

এএইচ