৮০ বছর ধরে চলছে বার্ষিক আল স্মিথ ডিনার। নিউইয়র্ক শহরের বনেদি পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি এই আয়োজনে অংশ নেন প্রধান দুই দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। ঐতিহ্য রয়েছে ক্যাথোলিক খ্রিস্টানদের জন্য দাতব্য সংগ্রহের এই ডিনারে একে অপরকে নিয়ে ঠাট্টা করবেন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা ।
উপহাসের এই চলের ব্যতিক্রম না হলেও এবার ভেঙ্গেছে সেই রীতি। কারণ ১৯৮৪ সালের পর আল স্মিথ ডিনারে স্বশরীরে অনুপস্থিত ছিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। যদিও ভিডিওবার্তায় সকল মার্কিনকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান কামালা হ্যারিস।
কামালার অনুপস্থিতির সুযোগকে কাজে লাগাতে ভোলেননি ট্রাম্প। স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৮৪ সালে আয়োজনে অনুপস্থিত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ওল্টার মন্ডেল হেরে বসেন রোনাল্ড রিগ্যানের কাছে। ট্রাম্পের দাবি, বাইডেনের চেয়েও নিকৃষ্ট ব্যক্তি কামালা।
রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর মধ্যে হৃদ্যতা বিনিময় হওয়ার কথা। আপনারা সবাই জানেন, আমি বাইডেনকে তেমন পছন্দ করি না। কিন্তু এখন তাকে পছন্দ হচ্ছে। কামলা বাইডেনের চেয়েও নিকৃষ্ট ব্যক্তি। অন্যদিকে বাইডেন কামালার চেয়ে যোগ্য প্রার্থী।’
নিউইয়র্কে ডিনারে উপস্থিত থাকার বদলে কামালা বেছে নেন উইকনসিনকে। নির্বাচনী সভায় অংশ নিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী তুলে ধরেন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। এসময় ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিল দাঙ্গাকে ভালোবাসার দিন হিসেবে মন্তব্য করায় ট্রাম্পকে তুলোধুনো করেন কামালা।
ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কামালা হ্যারিস বলেন, ‘গতকাল ৬ জানুয়ারিকে নিয়ে তিনি কী মন্তব্য করেছেন মনে আছে? তিনি একে ভালোবাসার দিন বলেছেন। ওনার মানসিকতা ধরতে পেরেছেন? মার্কিনরা এমন উসকানিতে বিরক্ত। যথেষ্ট হয়েছে। এখন পৃষ্ঠা পরিবর্তনের জন্য আমরা সকলে প্রস্তুত।’
উইসকনসিনে কামালার নির্বাচনী সভায় প্রথমবারের মতো অংশ নেন মার্কিন ধনকুবের মার্ক কিউবান। শার্ক ট্যাংকের সবচেয়ে ধনী এই শার্ক সমালোচনা করেন চীনা পণ্যের ওপর ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী মার্ক কিউবান বলেন, ‘ট্রাম্প ট্যারিফ সম্পর্কে খুবই কম জানেন। তিনি ভাবেন এই ট্যারিফের অর্থ চীন পরিশোধ করবে। এই লোকটি এটাও ভাবেন সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ করার অর্থ দিবে মেক্সিকো।’
পিছিয়ে নেই ইলন মাস্ক। বিশ্বের শীর্ষ ধনী ট্রাম্পের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন পেনসিলভেনিয়ায়। অভিবাসীদের বিতাড়িত করে যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ হিসেবে গড়ে তুলতে রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান মাস্ক।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ইলন মাস্ক বলেন, ‘আমরা সুরক্ষিত সীমান্ত চাই। আমরা চাই সরকার বুঝে শুনে অর্থ খরচ করুক। আমরা সংবিধানের বাক স্বাধীনতা, অস্ত্র বহনের স্বাধীনতাকে সমর্থন করি। আর এগুলোই প্রতিষ্ঠা করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।’
এদিকে নর্থ ক্যারোলাইনায় শুরু হয়েছে আগাম ভোটদান। তৃতীয় দিনের মাথায় আগাম ভোটদানের রেকর্ড ভেঙ্গে গেছে জর্জিয়ায়। অঙ্গরাজ্যটিতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ভোটার।