জ্বালানি সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা দীর্ঘস্থায়ী হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ১.৩ শতাংশ হতে পারে

বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংক | ছবি: এখন টিভি
0

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে চলতি বছরে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার কমিয়ে আড়াই শতাংশ নির্ধারণ করেছে বিশ্বব্যাংক। এছাড়া জ্বালানি সরবরাহে চলমান প্রতিবন্ধকতা দীর্ঘস্থায়ী হলে ও আর্থিক বাজার চাপের মুখে পড়লে প্রবৃদ্ধি ১.৩ শতাংশে নামতে পারে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

ইরান সংঘাতের শততম দিন পার হলেও, এখনও প্রত্যাশিত সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র- ইরান। এছাড়া হরমুজ ঘিরে অব্যাহত রয়েছে মার্কিন নৌ - অবরোধ। হরহামেশাই ঘটছে পাল্টাপাল্টি বিক্ষিপ্ত হামলার ঘটনা।

শুধু প্রাণহানি নয়, সংঘাতের জেরে গেল ফেব্রুয়ারি থেকে টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি। লাগামহীন মূল্যস্ফীতিতে নাভিশ্বাস খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব জনজীবনে। এছাড়া বিশ্ব বাজারে ওঠানামা করছে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম। বেড়েছে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। অস্থিতিশীল এই পরিস্থিতির মাঝেই আরেকদফা শঙ্কার খবর জানালো বিশ্ব ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার অর্ধ- বার্ষিক ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস’ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যেখানে চলতি বছরের জন্য বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ২.৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে ব্যাংকটি। যা ২০১৯ সালের কোভিড মহামারীর পর সর্বনিম্ন হার।

এর আগে গেল জানুয়ারিতে বিশ্বব্যাংক, ২০২৬ সালের জন্য বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার নির্ধারণ করেছিল ২.৯ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির হার হ্রাসের পেছনে প্রতিষ্ঠানটি মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে জ্বালানির লাগামহীন মূল্য, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও ঋণ গ্রহণের ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

এছাড়া বিশ্বব্যাংকের আগাম শঙ্কা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের পথে চলমান প্রতিবন্ধকতা দীর্ঘস্থায়ী হলে ও চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানির গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারে থাকলে, প্রবৃদ্ধির হার আরও কমে ২.১ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা মুদ্রাস্ফীতিকে ৪.৪ শতাংশে পৌঁছে দেবে।

আর জ্বালানি সংকট আর্থিক বাজারকে প্রভাবিত করলে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ১.৩ শতাংশে নামতে পারে। আর চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানির মানদণ্ড ব্যারেলপ্রতি দাম গড়ে ৯৪ ডলারে দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। যা গেল বছরের গড় দামের চেয়ে ৩৬ শতাংশ বেশি।

এছাড়া এবারের প্রতিবেদনে গেল জানুয়ারির চেয়ে দুই-তৃতীয়াংশ দেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে। যেখানে গালফভুক্ত দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি কমানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০২৫ সালে দেশগুলো ৩.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও তা চলতি বছর শূন্যের কাছাকাছি নামতে পারে।

আরও পড়ুন:

তবে মূল্যস্ফীতিতে জর্জরিত হলেও এখনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমায়নি বিশ্বব্যাংক। ২০২৬ এর জন্য মার্কিন অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার ২.২ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে ২০২৭ সাল নাগাদ প্রবৃদ্ধি ২.১ শতাংশে নামতে পারে বলে আগাম পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠানটির।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের জেরে ২০২৬ সালে ইউরো অঞ্চলের অর্থনীতি ০.৮ শতাংশ হারে বাড়বে বলে ধারণা বিশ্বব্যাংকের। যেখানে ২০২৫ সালে অঞ্চলটির প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১.৪ শতাংশ। তবে বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও ২০২৫ সালের মতো চলতি বছরও প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশের তালিকায় শীর্ষে থাকবে বলে পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের। এবছর দেশটির প্রবৃদ্ধির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬.৬ শতাংশ। গেল বছর এটি ছিল ৭ শতাংশ।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণভাবে সব দেশকে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালী করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে।

এসএস