আটলান্টার স্টেডিয়ামে সমর্থকদের হাত থেকে চেয়ে নিয়ে আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা যে ব্যানারে বার্তাটি তুলে ধরেছিলেন, ঠিক সেই ফ্রন্টেই এখন সমর্থকদের পোশাকে বিনামূল্যে তা ছাপিয়ে দিচ্ছে বুয়েনস আইরেসের একটি প্রিন্টিং ওয়ার্কশপ। বিনামূল্যে এই বার্তাটি জামায় ছাপিয়ে নিতে ওয়ার্কশপের বাইরে জমেছে কয়েক ব্লকের দীর্ঘ লাইন। ১৯৮২-এর যুদ্ধ দেখা কারিনা মিরান্ডা কিংবা সাধারণ সমর্থকদের কাছে এই বার্তা কেবল কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, বরং জাতীয় আবেগের প্রতীক।
সমর্থকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘মালভিনাস যুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিলো ১৩ বছর, তাই আমি সেই সময়টা খুব কাছ থেকে দেখেছি। আমি সবসময় আর্জেন্টিনার জিনিসপত্র সাথে রাখি। আমরা এখানে এসেছি আমাদের পতাকায় “দ্য মালভিনাস আর আর্জেন্টাইন” বার্তাটি ছাপিয়ে নিতে।’
১৮৩৩ সালে ব্রিটেনের দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর থেকে চলে আসা বিরোধ আর ১৯৮২ সালের সংক্ষিপ্ত যুদ্ধের ক্ষোভ এখনও কাটেনি আর্জেন্টাইনদের। তাই ফিফার তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার ভয় থাকলেও খেলোয়াড়দের এই পদক্ষেপকে বীরত্ব হিসেবেই দেখছেন দেশের মানুষ।
আরও পড়ুন:
ওয়ার্কশপ মালিক ইভান মারকাসিয়ানোর মতে, মালভিনাস দাবির জন্য তাদের ফুটবলাররা ইতিহাসের সেরা পররাষ্ট্র প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছে।
ইভান মারকাসিয়ানো বলেন, ‘আমাদের মালভিনাস দাবির জন্য এই ছেলেরা ইতিহাসের সেরা পররাষ্ট্র প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছে। তারা ১৮৩৩ সাল থেকে চলে আসা আমাদের দাবিকে গোটা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে। এই বিশ্বকাপ স্পেনের জয়ের জন্য মনে রাখা হবে না, বরং মনে রাখা হবে এই কারণে যে আর্জেন্টাইনরা একটি ব্যানার তুলে ধরে নিজেদের অধিকার ফেরত চেয়েছে।’
মাঠের লড়াইয়ে ফাইনালে পরাজয় এলেও, ঐতিহাসিক শত্রু ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে হারিয়ে এবং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ভূমির দাবি তুলে ধরে আর্জেন্টাইনদের কাছে ফুটবলাররা ইতোমধ্যেই বিজয়ী। কাপ হাতছাড়া হলেও মালভিনাস বা ফকল্যান্ড ইস্যুতে আবারও প্রমাণ হলো— ফুটবল আর রাজনীতি আর্জেন্টাইনদের কাছে একই সুতোয় গাঁথা।





