কূটনীতি দুর্বল করছে যুক্তরাষ্ট্র, অভিযোগ ইরানের

আব্বাস আরাঘচি
আব্বাস আরাঘচি | ছবি: সংগৃহীত
0

যুদ্ধাবস্থা নিরসনে চলমান শান্তি আলোচনার প্রধান বাধা হলো ওয়াশিংটনের অতিরিক্ত দাবি-এমনটাই বললেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসের সঙ্গে ফোনালাপের সময় এ কথা বলেন তিনি। এসময় আরঘচি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে তুলছে। অবশ্য ইরানের এমন মন্তব্যের বিপরীতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলছেন, তেহরান ইস্যুতে একটি চুক্তির দিকে কিছুটা অগ্রসর হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে আরও কাজ করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে তেহরানে অবস্থান করছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। এরইমধ্যে শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন তিনি। স্থানীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে এ তথ্য দিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা। এতে বলা হয়, বৈঠকে তারা দু’দেশের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা বৃদ্ধিরোধ ও যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সবশেষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

অবশ্য চলমান এ শান্তি আলোচনার প্রধান বাধা হিসেবে ওয়াশিংটনের অতিরিক্ত দাবিকেই দুষলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসের সঙ্গে ফোনালাপের সময় এ কথা বলেন তিনি।

এসময় আরঘচি আরও বলেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, সাংঘর্ষিক অবস্থান এবং সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মূলত কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেই দুর্বল করে তুলছে। অবশ্য এসময় গুতেরেস এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে কূটনীতিক সমাধানে আসার আহ্বান জানান।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরান ইস্যুতে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে কিছুটা এগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ নিয়ে আরও কাজ করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। স্থানীয় সময় শুক্রবার সুইডেনে ন্যাটোর এক বৈঠকে শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

আরও পড়ুন:

মার্কো রুবিও বলেন, ‘কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। আমি এটাকে বাড়িয়েও বলবো না। আবার কমিয়েও দেখব না। তবে এ চুক্তি নিয়ে আরও কাজ করার আছে এবং এটা একটা ভালো লক্ষণ। তবে আমরা এখনো লক্ষ্যে পৌঁছাইনি। আমি আশা করি আমরা সেখানে পৌঁছাবো। তবে আমি একে আশাবাদী বা হতাশাবাদী কোনোটি হিসেবেই দেখি না। আমরা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিক্রিয়া জানাবো।’

এদিকে শান্তি আলোচনা নিয়ে তেহরানের দৃষ্টিভঙ্গি ওয়াশিংটনের চেয়ে অনেক বাস্তবসম্মত বলে মন্তব্য করেছেন জেনেভায় আন্তর্জাতিক সংস্থায় নিয়োজিত রুশ প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র যতটা অগ্রগতি দেখিয়েছে, বাস্তবে ততটা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ আলোচনাকে পতনের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান। এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে জাতিসংঘে নিয়োজিত ইরানের মিশনটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বাধায় পারমাণবিক অস্ত্রের অপসারণ -এনপিটি পর্যালোচনা সম্মেলন টানা তৃতীয়বারের মতো ব্যর্থ হয়েছে।

এদিকে বিশ্বজুড়ে থাকা ইরানের বিভিন্ন দূতাবাসের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে অনবরত কটাক্ষ ও ট্রল করা হচ্ছে। মূলত তেহরানের নেতৃত্ব যে দুর্বল নয় তার জানান দিতেই অনলাইন যুদ্ধ নেমেছে তেহরান।

এসএস