একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা-পাল্টা হামলায় কেঁপে উঠছে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ। শনিবার ২০০ মার্কিন বিমান একযোগে ইরানের ৫০০ স্থাপনায় হামলা চালিয়ে বাজিয়ে দেয় যুদ্ধের দামামা। ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা আলোচনার মধ্যে এই হামলা চালানো হলো। জবাবে ইরানও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে।
এর মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়ে। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে আরও লেখেন, ইরানের জনগণের জন্য নিজেদের দেশকে পুনরুদ্ধারের এটিই একমাত্র শ্রেষ্ঠ সুযোগ।
এর আগে এক ইসরাইলি কর্মকর্তার বরাতে খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীও দাবি করেন, খামেনি মারা গেছেন এবং তার মরদেহ চিহ্নিত করা গেছে।
স্যাটেলাইটের ছবিতে ধরা পড়ে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযান, অপারেশন রোয়ারিং লায়ন ও অপারেশন এপিক ফিউরির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত খামেনির কার্যালয়ের অবস্থা। যদিও শনিবারের অভিযানের সময় খামেনি সেখানে ছিলেন না বলেই জানায় ইরানের গণমাধ্যম। এরপর থেকেই খামেনির জীবিত থাকা, না থাকা নিয়ে শুরু হয় গুঞ্জন।
আরও পড়ুন:
যদিও এই খবর নাকোচ করে দিয়ে ইরানের দু’টি গণমাধ্যম তাসনিম নিউজ ও মেহের নিউজ জানিয়েছে, সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এখনো বেঁচে আছেন এবং তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইরানী এক কর্মকর্তা স্থানীয় গণমাধ্যমে অভিযোগ করেন, মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়াতে কৌশল হিসেবে এই প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু। যদিও ট্রাম্পের পোস্টের পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও এই একই তথ্য দিচ্ছে বলে দাবি বিবিসি’র।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় প্রাণ গেছে খামেনির মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাতার। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিকে শনিবার দিনভর হামলার পর ইরান যখন একে একে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি, বিমান বন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে তখন মধ্যরাতে ইরানে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। রোববার সকালে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপেছে রাজধানী তেহরান।
আরও পড়ুন:
বিপরীতে পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। দফায় দফায় হামলা হয়েছে ইসরাইলি রাজধানী তেলআবিবে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কিছু ভবন। তবে মূল প্রতিঘাত করা হচ্ছে ইসরাইল সীমান্তের চারদিকে ঘিরে থাকা দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয়। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আবুধাবির জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ইরাকের এরবিল বিমানবন্দর, বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের হামলায় বেশ কয়েকজনের হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের ড্রোন হামলায় আগুন ধরে যায় আরব আমিরাতের বুর্জ আল আরব হোটেলে। এছাড়াও সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও কাছে অবস্থিত মার্কিন সেনাদের ব্যবহৃত প্রিন্স সুলতান এয়ারবেসে হামলা করেছে তেহরান।
এদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক থেকে অবিলম্বে দুই দেশকে যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। কোনো উস্কানি ছাড়াই যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ায় নিজেদের আত্মরক্ষার অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত। আর ইরানে হামলা চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতের।





