নতুন বছরে বন্ধ হবে ইসরাইলি আগ্রাসন— প্রত্যাশা গাজাবাসীর

তাবুতে ফিলিস্তিনিদের জীবনযাপন
তাবুতে ফিলিস্তিনিদের জীবনযাপন | ছবি: সংগৃহীত
0

যুদ্ধবিরতির পরও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন না আসায়, নতুন বছরে হাসি ফোটেনি গাজার কয়েক লাখ বাস্ত্যুচ্যুত ফিলিস্তিনির। প্রচণ্ড শীত ও ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করা গাজাবাসীর প্রত্যাশা নতুন বছরে সম্পূর্ণরূপে উপত্যকায় বন্ধ হবে ইসরাইলি আগ্রাসন।

ক্যালেন্ডারের পাতায় নতুন বছর- উৎসবে মাতোয়ারা বিশ্ববাসী। স্থানীয় সংস্কৃতি আর নতুনত্বের মিশিলে ইতোমধ্যে ২০২৬ সালকে বরণ করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ। কিন্তু গেল বছরের অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, নববর্ষের আনন্দ নেই গাজার লাখ লাখ বাস্ত্যুচ্যুতর।

যুদ্ধদিনের মতো নতুন বছরের প্রথম দিনটিও গাজার তাঁবুতে থাকা বাসিন্দাদের কেটেছে শীত ও ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করে। তবুও তাদের প্রত্যাশা, নতুন বছরে আসবে পরিবর্তন। বিশ্বের অন্যান্য স্থানের আর ১০ জন মানুষের মতো সুখে- স্বাচ্ছন্দ্যে পরিবার নিয়ে দিন কাটবে তাদের।

তাঁবুতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আশা রাখি ২০২৬ সাল হাসি, খুশি ও পুনর্গঠনের বছর হবে। ইসরাইলিরা গাজা থেকে সম্পূর্ণরূপে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেবে।’

অন্য একজন বলেন, ‘পৃথিবীর বাকী অংশের মানুষের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন চাই। আমাদের সন্তানেরা পড়াশোনা ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা থেকে ক্রমাগত বঞ্চিত।’

আরও পড়ুন:

গাজায় বসবাসকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘অনেক হয়েছে। দুর্যোগের কারণে তাঁবুতে জবুথবু হয়ে দিন পাড়ি দিচ্ছি। নতুন বছরে স্থায়ী বাসস্থানে ফিরতে চাই। বছরটি আমাদের দুঃখ লাঘব করুক।’

অন্য একজন বলেন, ‘অনেকে আবার যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনে বিশ্ববাসীর সাহায্য প্রত্যাশা করেন।’

গাজার স্থানীয় একজন বলেন, ‘বিশ্বকে অবশ্যই গাজা পুনর্গঠনে এগিয়ে আসতে হবে। নতুন বছরে এমন একটি গাজা চাই যেখানে মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করবে।’

এদিকে শুক্রবার বিখ্যাত অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি গাজা সীমান্তবর্তী মিশরের রাফাহ ক্রসিং ও আরিশের একটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এসময় স্থানীয় অনেকের সঙ্গে কথা বলেন জোলি।

টানা দুই বছরের আগ্রাসনের পর গেল বছরের অক্টোবর গাজায় হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরাইল। কিন্তু নানা অজুহাতে মাঝে- মধ্যেই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে আইডিএফ।

এরই মধ্যে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় সবচেয়ে কঠিন ধাপ দ্রুত শুরুর কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ধাপে হামাসকে সম্পূর্ণরূপে নিরস্ত্রীকরণের প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন।

এসএস