গাজার জলসীমায় পৌঁছেছে ফ্রিডম ফ্লোটিলার একটি নৌযান

ফ্রিডম ফ্লোটিলার একটি নৌযান
ফ্রিডম ফ্লোটিলার একটি নৌযান | ছবি: সংগৃহীত
2

গাজাবাসীর জন্য ত্রাণসামগ্রী বহনকারী নৌকার বহর গ্লোবাল ফ্রিডম ফ্লোটিলার (জিএসএফ) একটি নৌযান গাজার জলসীমায় পৌঁছেছে। মাইকেনো নামের ওই নৌযানটি দখলদার ইসরাইলের কঠোর নজরদারি উপেক্ষা করে গাজার জলসীমায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। একইসঙ্গে গাজা অভিমুখে রয়েছে আরও অন্তত ২৬টি নৌযান। সবগুলো নৌযান গাজার উপকূলের দিকে যাত্রা করেছে।

সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার লাইভ ট্র্যাকার অনুযায়ী, মাইকেনো নামে একটি জাহাজ বর্তমানে গাজার জলসীমায় রয়েছে। তবে ইসরাইলি বাহিনী এখনও এটিকে আটক করেছে কি না তা স্পষ্ট নয়।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইসরাইলি কমান্ডোরা বেশ কিছু নৌকা আটকে রেখেছে। বর্তমানে ২৪টি জাহাজের মধ্যে গাজার জলসীমার কাছে আরও কয়েকটি জাহাজ রয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই হয়তো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে ভূমধ্যসাগরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার’ অন্তত ১৩টি নৌযান আটক করে ইসরাইল। এসব নৌযানে থাকা সুইডিশ জলবায়ু অ্যাকটিভিস্ট গ্রেটা থুনবার্গসহ ৩৭টি দেশের দুই শতাধিক অভিযাত্রীকে আটক করে নিজেদের বন্দরে নিয়ে যাচ্ছে দখলদার বাহিনীটি।

আটক মানবাধিকার কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ |ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অংশ হিসেবে থাকা বেশ কয়েকটি জাহাজকে ‘নিরাপদে থামানো হয়েছে’ এবং বহরে থাকা জাহাজগুলোকে ইসরাইলি বন্দরে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে, জিএসএফ জানায় যে তাদের ৩০টি নৌকা এখনও গাজার দিকে শক্তিশালীভাবে যাত্রা করছে এবং নৌকাগুলো ওই সময় তাদের নির্ধারিত গন্তব্য থেকে ৪৬ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা সমুদ্রপথে অবরুদ্ধ গাজাবাসীর জন্য ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার একটি বৈশ্বিক প্রচেষ্টা। এ নৌবহরে রয়েছে ৪০টির বেশি বেসামরিক নৌযান। এই বহরে যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ প্রায় ৪৪টি দেশের ৫০০ অভিযাত্রীর মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, আইনজীবী, অধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিক।

আরও পড়ুন:

গাজামুখী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’য় ইসরাইলি হামলা ও আটকের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তুরস্ক। একই সঙ্গে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে আটকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে আঙ্কারা।

আটক ফ্রিডম ফ্লোটিলার মানবাধিকার কর্মীরা |ছবি: আল জাজিরা

গাজামুখী ত্রাণ বহর আটকে দেওয়ায় স্পেন, ইতালি, জার্মানি, তুরস্ক, গ্রিসসহ বহু দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এছাড়া আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো ও কলম্বিয়ায় রাস্তায় নেমেছে মানুষ।

আল জাজিরা, রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ফ্লোটিলা নৌবহরকে বাধা দেয়া ও বেশ কয়েকজনকে আটকের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ব্রিটিশ লেবার পার্টির সাবেক নেতা এবং বর্তমানে ইয়োর পার্টির প্রধান জেরেমি করবিন এটিকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেছেন।

আসু