গাজা-ইসরাইল যুদ্ধ পাঁচশতম দিনে গড়ালেও এখনও স্থায়ী কোন সমাধান আসেনি। প্রায় ১ মাস ধরে চলা প্রথম পর্যায়ের যুদ্ধবিরতিও অনিশ্চয়তার মুখে। গাজা উপত্যকা ও ফিলিস্তিনিদের নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে সমালোচনার ঝড়। গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে ইসরাইলের যেকোনো পদক্ষেপে সমর্থন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, একটি অন্যরকম গাজা গড়তে ট্রাম্প যে পরিকল্পনা নিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তার দেশ। এরই মধ্যে একটি সরকারি বিশেষ দপ্তর চালু করেছে ইসরাইল। গাজা থেকে যেসব ফিলিস্তিনি স্বেচ্ছায় অন্যত্র যেতে চান, তাদের স্থানান্তরে কাজ করবে বিশেষ এই দপ্তর।
এত আয়োজনের মধ্যে বিস্ফোরক এক মন্তব্য করলেন রিপাবলিকান দলের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। ইসরাইল সফরে দ্বি-দলীয় মার্কিন সিনেট প্রতিনিধি দলের বৈঠকের পর তিনি বলেন, গাজা দখলে খুব একটা আগ্রহ নেই যুক্তরাষ্ট্রের। এদিকে ডেমোক্র্যাট দলের সিনেটরের দাবি, গাজা নিয়ে আরব রাষ্ট্রগুলোর বিকল্প পরিকল্পনা আছে।
মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, ‘গেল আড়াই বছর ধরে ফিলিস্তিনিদের সমস্যার সমাধানে কাজ করছি। কেউই চায় না গাজা বা পশ্চিম তীরের সঙ্গে ইসরাইল এমন কোনও চুক্তি করবে যার ফলে আরেকটি ৭ অক্টোবরের ঘটনা ঘটবে। একটা কথা স্পষ্ট করে বলছি, মার্কিন সিনেটে গাজা দখলের ব্যাপারে খুব কম আগ্রহই দেখিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।’
ফিলিস্তিনিদের অন্যত্র সরানোর ব্যাপারে ট্রাম্পের পরিকল্পনাও প্রত্যাখ্যান করেছে আরব দেশগুলো। গাজার পুনর্বাসনের একটি বহুমুখী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে মিশর। পাঁচ বছরে তিনটি ধাপে তা করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে গাজার অভ্যন্তরে তিনটি নিরাপদ অঞ্চল চিহ্নিত করে তাদের স্থানান্তর করা হবে। ফিলিস্তিনি প্রশাসন গঠন করে আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় ধ্বংসস্তূপ অপসারণ ও অবকাঠামো পুনঃনির্মাণের কাজ করা হবে।
গাজার পুনর্বাসনে মিশরের পরিকল্পনা, প্রথম পর্যায়- ৬ মাসে গাজার অভ্যন্তরে নিরাপদ অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের স্থানান্তর। দ্বিতীয় পর্যায়- মিশরীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় ধ্বংসস্তূপ অপসারণ ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ। তৃতীয় পর্যায়- উপত্যকা পরিচালনা ও তদারকির জন্য একটি প্রশাসন গঠন।
তবে, দ্বিরাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে চীন। কায়রোতে গ্লোবাল অ্যালায়েন্সের বৈঠকে চীনা প্রতিনিধি বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির সফল বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে। এদিকে, জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত, পুনর্বাসন ও বিকল্প আবাসভূমির ঘোর বিরোধী তিনি।
জর্ডানের বাদশা আবদুল্লাহ বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, পশ্চিমাদের গাজা পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেই, তারা তা বুঝতেও চায় না। তবে গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে বাস্তুচ্যুতি ছাড়া এ অঞ্চলের পুনর্বাসনের ওপর দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছি। দ্বী-রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনই একমাত্র উপায়।’
মিশরে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লিয়াও লিখিয়াং বলেন, ‘এমন অবস্থায় পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা পাচ্ছে না গাজাবাসী। প্রতিকূল আবহাওয়া দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলেছে বহুগুণ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পাশে চেয়েছে ফিলিস্তিনিরা।’
যুদ্ধের পাঁচশ'তম দিন পার হলেও গাজায় আটক ৭৩ জিম্মির এখনও মুক্তি মেলেনি। অবিলম্বে তাদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে রাজধানী তেল আবিবসহ জেরুজালেমে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ করেন কয়েক হাজার মানুষ।





 or Benjamin Netanyahu (right) are projected to win enough seats for a majority-320x167.webp)