ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে শুল্ক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে বিশ্ববাসী। ১ দিন বাদেই কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর কার্যকর হবার কথা ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ। তবে এ প্রসঙ্গে এখনো নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, দুই দেশের পণ্যের ওপর শুল্কারোপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে ৩১ জানুয়ারি রাতে। মার্কিন ভূখণ্ডে ভয়াবহ মাদক ফেন্টানিল ও অবৈধ অভিবাসীদের অবাধ প্রবাহ বন্ধের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পেতে এখনো অপেক্ষা করছেন ট্রাম্প। তবে শুল্কারোপের আওতামুক্ত থাকতে পারে জ্বালানি পণ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, 'কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর আলাদাভাবে ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ কার্যকর করা হতে পারে। আমাদের এটি প্রয়োজন কারণ দুই দেশের সঙ্গেই বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। সময়ের সঙ্গে শুল্কারোপের পরিমাণ বাড়তে কিংবা কমতে পারে। তবে, এর সঙ্গে জ্বালানি তেলের কোনো সংযোগ নেই।'
ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধের হুমকিকে চমৎকার কৌশল হিসেবে অভিহিত করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে অন্য দেশগুলোর কাছ থেকে ভালো প্রস্তাব পাওয়ার আশা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও শুল্কারোপের বোঝা আদতে মার্কিন নাগরিকদেরই বহন করতে হবে বলে শঙ্কা বিশ্লেষকদের।
ক্যাটো ইন্সটিটিউটের রিসার্চ ফেলো ক্লার্ক প্যাকার্ড বলেন, 'এটি চমৎকার কৌশল। প্রতিপক্ষের অর্থনীতিকে পঙ্গু করার হুমকি দিয়ে তিনি ভালো প্রস্তাব পেতে চাইছেন। যদিও মার্কিন ভোক্তারা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শুল্কের কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। তাই শেষ পর্যন্ত মার্কিন ভোক্তাদেরই এই শুল্কের বোঝা টানতে হবে।'
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের দখলের ঝুঁকিতে রয়েছে পানামা খাল। এরমধ্যেই পানামা সফরে যাচ্ছেন নয়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনো আলোচনা হবে কী না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পানামার প্রেসিডেন্ট জানান, খালটি পানামার সম্পদ। তাই আলোচনার কোনো প্রশ্নই ওঠেনা।
পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো বলেন, 'অসম্ভব। পানামা খাল আমাদের সম্পদ। এ বিষয়ে আলোচনা কিংবা সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। ট্রাম্পের প্রায় এক মাসের শাসনামলে আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বার্তা পাঠানো হয়নি। আমরাই সিদ্ধান্ত নিবো আমাদের খাল কারা পরিচালনা করতে পারবে।'
এদিকে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে মেক্সিকো উপসাগরের পরিবর্তিত নাম হয়েছে গাল্ফ অফ আমেরিকা। যদিও এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মেক্সিকো। এর মধ্যে গুগল ম্যাপেও পরিবর্তিত নাম যুক্ত করায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট। উপসাগরটি তিনদেশের সীমানায় অবস্থিত হওয়ায় ঐতিহাসিক নামটিতে ফিরে যেতে গুগলকে আহ্বান জানিয়েছেন ক্লদিয়া শেইনবাউম।