দুই ঘনিষ্ঠ মিত্রের পতন ট্রাম্পের হাতে; নিন্দা জানানো ছাড়া সামরিক ঝুঁকি নেয়নি চীন

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, ডোনাল্ড ট্রাম্প, শি জিনপিং, নিকোলাস মাদুরো
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, ডোনাল্ড ট্রাম্প, শি জিনপিং, নিকোলাস মাদুরো | ছবি: এখন টিভি
0

দুই মাসের ব্যবধানে চীনের দুই ঘনিষ্ঠ মিত্রের পতন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে। একজন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো, অপরজন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপরও জাতিসংঘে নিন্দা জানানো ছাড়া মিত্রদের পক্ষে আর কোনো সামরিক বা কৌশলগত ঝুঁকি নেয়নি বেইজিং। এর পেছনে কী স্বার্থ লুকিয়ে আছে বেইজিংয়ের?

৩ জানুয়ারি। ভেনেজুয়েলায় দুর্ধর্ষ অভিযান চালিয়ে স্ত্রীসহ প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নিয়ে যান মার্কিন সেনারা। ভেনেজুয়েলাকে নিজের কব্জায় নেন ট্রাম্প।

এরপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে নজিরবিহীন যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। নিহত হন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। দুই মাসের মধ্যেই মিত্র মাদুরোকো উৎখাত এবং খামেনিকে হত্যার পরও জাতিসংঘে ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েই খান্ত চীন। নেয়নি সামরিক বা কৌশলগত কোনো বড় পদক্ষেপ।

একের পর এক বন্ধু রাষ্ট্রের ওপর আঘাত হানার পরও চিরশত্রু ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে বেইজিং নীরবতার নেপথ্যে কী রহস্য রয়েছে; তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যা নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। যেখানে ওয়াশিংটনভিত্তিক- ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের চীন বিষয়ক সিনিয়র ডিরেক্টর ক্রেইগ সিঙ্গেলটন জানান, চীন হলো সুসময়ের বন্ধু: তারা কথায় পটু কিন্তু ঝুঁকি নিতে নারাজ।

আরও পড়ুন:

বিশ্লেষকরা এও মনে করছেন যে, বেইজিং ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হলেও; চীনের কাছে তেহরানের কৌশলগত গুরুত্ব অনেকের ধারনার চেয়েও কম। দু’দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা সীমিত পর্যায় রয়ে যাওয়াই এর বড় প্রমাণ। এছাড়া ইরানের চেয়ে অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বেইজিংয়ের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিমাণও বেশি। যা প্রমাণ করে; শুধু ইরান নয় পুরো মধ্যপ্রাচ্যেই ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই মূল লক্ষ্য বেইজিংয়ের।

এদিকে বেলজিয়ামভিত্তিক- থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং জানান, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ানোর কোনো সুফল দেখছে না চীন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বজায় রাখা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। যার কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে গত এক বছরে গড়ে ওঠা ইতিবাচক ধারা নষ্টেরও ঝুঁকি নিতে চাইছে না শি-জিনপিং প্রশাসন।

ওয়াশিংটন যদি সামরিক পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে বেশি জড়িয়ে পড়ে; তবে দক্ষিণ চীন সাগর বা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ওপর মার্কিন চাপ অনেকটাই কমবে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যার কারণে এটিকে নিজেদের জন্য স্বস্তির মনে করেও হয়তো মার্কিনবিরোধী বড় পদক্ষেপ থেকে দূরে আছে বেইজিং। এছাড়া আফগানিস্তান ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘকালীন যুদ্ধের পরিণতি থেকেও হয়তো শিক্ষা নিয়েছে চীন। যার কারণে শি-জিনপিং প্রশাসন কোনো দেশের পক্ষে নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়াতে চায় না।

এসএস