খেলার মাঠেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ, পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ফিফার বিরুদ্ধে

ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি
ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি | ছবি: সংগৃহীত
0

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কট করার দ্বারপ্রান্তে ইরান। এতে কিছু যায় আসে না বলে ওদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের তীর ফিফার বিরুদ্ধেও।

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত থামিয়ে দেয়ার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রথম 'শান্তি পুরস্কার' দেয় ফিফা। কিন্তু বর্তমানে ইরানে ক্রমাগত যৌথ হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তিন মাসের মধ্যেই শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ইরানের অংশগ্রহণ। অথচ একরকম নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে নিহত হওয়ার পর ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের আরও দ্বারপ্রান্তে রয়েছে তেহরান। নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ভিসা সংক্রান্ত জটিলতাও ইরানের আসন্ন বিশ্বকাপে খেলার পথে প্রধান অন্তরায়।

আরও পড়ুন:

দল ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বাদে বাকিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহেদি তাজ যদিও জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বা বয়কটের বিষয়ে দেশটির ক্রীড়া কর্মকর্তারাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ইরান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করুক বা না করুক এতে তার 'কিছুই আসে যায় না'। দুই দেশের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, ফিফার সাধারণ সম্পাদক মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রম দাবি করেন, তাদের লক্ষ্য হলো একটি নিরাপদ বিশ্বকাপ আয়োজন করা যেখানে সব দেশ অংশগ্রহণ করবে।

এদিকে ফুটবল পাড়ায় জোর-গুঞ্জন নিয়মের মারপ্যাঁচে ইরানকে সরিয়ে ফিফা তাদের জায়গায় অন্য কোনো এশীয় দেশকে সুযোগ করে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে ইরাক অথবা সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা জোরালো।

এই ঘটনা ফিফার চরম দ্বিমুখী নীতির প্রমাণ দিচ্ছে। কেননা স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না ফিফা। অথচ ২০২২ সালে ইউক্রেনের সাথে যুদ্ধে জড়ানোয় বিশ্বকাপ থেকে রাশিয়াকে বাদ দিয়ে দেয় ফিফা। এদিকে শুধু ইরান নয়, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনিজুয়েলা, নাইজেরিয়াতে সরাসরি সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। এমনকি গ্রিনল্যান্ড, কিউবা ও কলম্বিয়াকেও নানা হুমকি দিচ্ছে।

তাইতো ট্রাম্পের এমন অসংবেদনশীল মনোভাবকে উপেক্ষা করে ফিফা পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ২০২৬ বিশ্বকাপকে নিছক ফুটবলের আসর থেকে সরিয়ে এক বৈশ্বিক রাজনৈতিক দাবার বোর্ডে পরিণত করা হচ্ছে বলেও মনে করেন তারা।

ইএ