পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হয়ে উঠেন গণমানুষের নেত্রী। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজিত হয়ে নিজের দল টেকাতেই বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন মমতা।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি। পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতেও কেন্দ্র সরকারের শক্তিশালী বিরোধী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
সবশেষ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ে অবসান ঘটে তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের। তবে হেরে গেলেও ভোটের হিসাবে তৃণমূলের অবস্থান খুব একটা দুর্বল ছিল না। ৪০ শতাংশ মানুষের রায় পেয়েছে দলটি। বিধানসভায় ৮০ ও ও সংসদে ২৮ জন প্রতিনিধিত্ব ধরে রেখেছে তারা।
আরও পড়ুন:
তবে নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হয় অস্বস্তি। একের পর এক নেতা প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন মমতার নেতৃত্ব নিয়ে। তৃণমূলের বহু বিধায়ক দলের সভাপতি এবং তার ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়েও আপত্তি তুলেছেন অনেকে।
সংকট গভীর হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে দিল্লিতেও। ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে বিবিসি বলছে, তৃণমূলের একাংশ সাংসদ দল ছাড়ার পথ খুঁজছেন। যদিও এসব তথ্যের আনুষ্ঠানিক সত্যতা নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে।
ভারতের রাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় বিজেপির উত্থান আঞ্চলিক দলগুলোর জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। ঝুঁকিও বেড়েছে ভাঙনের।
তৃণমূলের সংকটের পেছনে উত্তরাধিকার রাজনীতিকে দুষছেন অনেকে। দীর্ঘদিন ধরে দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্নে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সামনে এসেছে। দলের অনেক নেতাই এর বিরোধী ছিলেন। ক্ষমতা হারানোর পর সেই চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।




