বিধানসভার পর এবার লোকসভাও হাতছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। লোকসভায় ২৮ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল থেকে আলাদা হয়ে জোট গঠন করেছেন। সেই লক্ষ্যে এসব সাংসদের সমর্থনে তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একটি চিঠি জমা দেয়া হয় লোকসভার স্পিকারের কার্যালয়ে। শুধু তাই নয়, তারা বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রের এনডিএ সরকারকে সমর্থন দেবে বলে জানায় দলের সাংসদ ডা. শর্মিলা সরকার। জানা গেছে, লোকসভা স্পিকারকে চিঠি পাঠানোর আগে দিল্লিতে বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে গোপনে বৈঠকে বসেন এ বিদ্রোহী সাংসদরা।
এদিকে, অসন্তোষের ছাপ তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদদের মধ্যেও। এরিমধ্যে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুখেন্দু শেখর রায়। পাশাপাশি দলের প্রাথমিক সদস্য পদও ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। তৃণমূলের এ অবস্থার জন্য অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে দায়ী করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বিদ্রোহী তৃণমূলের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দল নেতা বলেন, ‘সুখেন্দুদা যে কথাগুলো বলেছেন, সেই কথাগুলোর সঙ্গে আমরা একমত। তিনি সেই কথাগুলো বলে তিনি মনে করেছেন, তিনি সংসদ সদস্য থাকবেন না রাজ্যসভার, ইস্তফা দিয়েছেন। আমাদের লেজিসলেটিভ পার্টির যারা সদস্য আছেন, তাদের যে ইচ্ছা, সেই ইচ্ছার ঐক্য, একই ধরনের ইচ্ছা। সেই ইচ্ছার ঐক্য বোধহয় দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছেছে।’
এরই মধ্যে দিল্লিতে যখন তৃণমূলের এ অন্দরে ফাটল নিয়ে টানটান উত্তেজনা, ঠিক তখনই রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন কলকাতা পৌরসভার পদত্যাগী মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তবে ঠিক কি কারণে এসেছেন সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেন নি তিনি।
এদিকে দিল্লিতে যখন তৃণমূলের ভাঙন অব্যাহত, ঠিক তখনই বিজেপি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া জোটে’র বৈঠকে উপস্থিত তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলটির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। এসময় মমতা, কংগ্র্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রেসিডেন্ট অখিলেশ যাদবের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
তবে তৃণমূল কংগ্রেসের এমন অবস্থা নিয়ে কটাক্ষ করতে পিছপা হয় নি বিজেপি। তৃণমূলের এই ভাঙন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্যাবিনেট মন্ত্রী তাপস রায় বলেছেন, তৃণমূলের এই ভাঙন অব্যাহত থাকবে এবং এটাই দলটির ভবিষ্যৎ।
মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, ‘এটাই তৃণমূলের ভবিষ্যৎ, এটাই তৃণমূলের হওয়ার ছিলো। সেটাই হচ্ছে, তার কারণ হচ্ছে মমতাদিকেই মানুষ মেনে নিতে পারছে না, মানুষ পরিত্যাগ করেছে। এমএলএ, এমপিরা মমতাদিকেই মেনে নিতে পারছে না। সেখানে অভিষেককে কি করে মেনে নেবে?’
ধারণা করা হচ্ছে, মূলত দলে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার পাশাপাশি অভিষেকের আধিপত্যের কারণে আজ ভাঙনের দিকে এগোচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে নিজ দলের সদস্যদের সমস্যা না মিটিয়ে দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক কতটুকু কাজে দেবে সময়ই তা বলে দেবে মমতা বন্দোপাধ্যায়কে।




