ইরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের ‘অযৌক্তিক ও উচ্চাভিলাষী’ দাবিকে ব্যর্থতার জন্য দায়ী করা হলেও; মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ ঘটনাকে ইরানের জন্য ‘বড় ধরনের দুঃসংবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি এবং কূটনীতিক আলী বাঘেরি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
মূলত পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যেই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
কেন সমঝোতা হলো না
কূটনৈতিক সূত্র ও বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ কৌশলের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব কমানো এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের মতো শর্ত দেয়।
অন্যদিকে, ইরান এসব শর্তকে সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তির অধিকার থেকে তারা সরে আসবে না।
মার্কিন বার্তা ও সম্ভাব্য চাপ
বৈঠক শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার আগে জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘সমঝোতা না হওয়া ইরানের জন্যই বেশি ক্ষতিকর।’ বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা কূটনৈতিক চাপের ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৈশ্বিক প্রভাবের শঙ্কা
এই ব্যর্থতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে—দুই দেশের মধ্যে গভীর আস্থার সংকট আরও স্পষ্ট হলো; হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে; ইরান চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পারে।





