ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ পুনর্বহাল; হরমুজে ২০% ফি বসানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

সেন্টকম প্রকাশিত ভিডিওতে ইরানে হামলার সময় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দৃশ্য
সেন্টকম প্রকাশিত ভিডিওতে ইরানে হামলার সময় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দৃশ্য | ছবি: সেন্টকম
0

ইরানি জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ পুনর্বহাল এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী অন্যান্য জাহাজের পণ্যে ২০ শতাংশ ‘ফি’ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘোষণার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ব্লুমবার্গ ও এএফপির বরাত দিয়ে জাপান টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন সেন্টকম জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াতকারী জাহাজে অবরোধ কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে গত এক সপ্তাহে চালানো একাধিক হামলার সর্বশেষ দফা পাঁচ ঘণ্টার অভিযানের মাধ্যমে শেষ হয়েছে বলে জানায় তারা। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ‘ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা দুর্বল করা’।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, হরমুজ প্রণালি ‘ইরান থাক বা না থাক খোলা থাকবে’। তবে ইরানি জাহাজগুলো প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারবে না। অন্য দেশের জাহাজ চলাচল করতে পারবে, কিন্তু ‘ন্যায্যতার স্বার্থে’ ২০ শতাংশ হারে চার্জ দিতে হবে।

হোয়াইট হাউস এই ফি কীভাবে কার্যকর হবে বা মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি। জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়েছে তাৎক্ষণিকভাবে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলারের ওপরে উঠে গেছে, যা এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওমানের জলসীমায় হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ রুট দিয়ে যাওয়ার সময় ‘মোমবাসা’ ও ‘আল বাহিয়াহ’ নামের দুটি ট্যাংকারে ইরানি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নাবিক নিহত এবং আরও আটজন আহত হন।

আরও পড়ুন:

এর পাল্টা জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বাহরাইন, জর্ডানসহ কয়েকটি দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। জর্ডান জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো। ২০ শতাংশ ফি আরোপ করা হলে একটি পূর্ণ লোডকৃত সুপার ট্যাংকারে অতিরিক্ত প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার খরচ যোগ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক নৌ আইন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য ব্যবহৃত প্রণালিতে সাধারণত কোনো বাধ্যতামূলক টোল আরোপের সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থা জানিয়েছে, এমন প্রণালিতে ফি আরোপের বিরোধিতা করে তারা।

ইরান বলেছে, জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালিতে টোলমুক্ত বাণিজ্যিক চলাচল নিশ্চিত করার কথা ছিল। তেহরান অভিযোগ করেছে, ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় চুক্তি ‘সংকটপর্বে’ প্রবেশ করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্সে লিখেছেন, ‘ইরান সবসময় হরমুজের অভিভাবক ছিল এবং থাকবে। ২০ শতাংশ অবশ্যই বেশি, আমরা ন্যায্য হবো।’

ট্রাম্প একই সঙ্গে ইরানের নাতাঞ্জের কাছে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বত স্থাপনা ধ্বংসের হুমকিও দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন, আমরা আসছি।’

এএম