যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের সংকটে ভুগছে ইউক্রেন। গত কয়েক সপ্তাহে এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে। জুলাই মাসে রাশিয়া গড়ে প্রতি তিন দিনে একবার কিয়েভে হামলা চালিয়েছে। জেলেনস্কি টেলিগ্রাম অ্যাপে দেয়া বার্তায় বলেন, ‘এটি শুধু গ্রীষ্মকালের ঘটনা নয়। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের প্রতিটি সময়ের জন্যই এই কথা প্রযোজ্য।’
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বুধবারের হামলায় ছোড়া ২৪টি ব্যালিস্টিক ও ৪টি জিরকন ক্রুজ মিসাইলের একটিও ভূপাতিত করা যায়নি। প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন বিষয়ে দেশটির প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেসনভ জানান, রাশিয়া প্রতি মাসে ১০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে সক্ষম। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে রসদ সরবরাহ কেন্দ্র, শিল্প স্থাপনা, খাদ্য ও নির্মাণসামগ্রীর গুদাম। টেলিগ্রামে দেয়া বার্তায় তিনি বলেন, ‘এই ক্ষয়ক্ষতির যুদ্ধ এখন নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।’
নিজস্ব সক্ষমতার পাশাপাশি রাশিয়া আবারও উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে। ইউক্রেন জানিয়েছে, গত সপ্তাহে গত বছরের আগস্টের পর প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ার তৈরি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম রাশিয়ায় উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েনের কাজ শুরু হয়েছে। এতে ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ছয়টি লঞ্চার থাকতে পারে।
বিশ্বজুড়ে ইন্টারসেপ্টরের মজুত সীমিত এবং সরবরাহে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকায় সামরিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, ইউক্রেনের উচিত সরাসরি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো। যদিও ইউক্রেনের বর্তমান সামরিক সক্ষমতায় এমন হামলা সম্ভব নয়। এদিকে কিয়েভ ইউরোপজুড়ে একটি অভিন্ন ব্যালিস্টিক-বিরোধী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মিত্রদের ওপর চাপ দিচ্ছে। একই সঙ্গে দেশেই প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স পেতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে দেশটি।





