ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেয়া ৯০ বিলিয়ন ইউরো ঋণের অংশ থেকে ২.৫ বিলিয়ন ইউরো ব্যয়ে ২০টি নতুন গ্রিপেন-ই ফাইটার জেট কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউক্রেন। এছাড়া সুইডেন আরও ১৬টি পুরোনো মডেলের জেট অনুদান হিসেবে দিবে। গত সপ্তাহে উপসালা বিমানঘাঁটিতে সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনের সঙ্গে এই চুক্তি সই করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ‘এই জেটগুলো আমাদের খুব প্রয়োজন। এটি ইউক্রেনের জন্য সত্যিই একটি নতুন অধ্যায়।’
সুইডিশ ডিফেন্স ইউনিভার্সিটির প্রভাষক জোহান হুওভিনেন বলেন, ‘এটি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু। গ্রিপেন মূলত রাশিয়ার সিস্টেম মোকাবিলা করার জন্যই ডিজাইন করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এটি সুইডিশ প্রযুক্তির একটি বড় পরীক্ষা হবে।’
গ্রিপেন যুদ্ধবিমানের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর টেকসই গঠন এবং নমনীয়তা। যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ জেটের মতো এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল বা আধুনিক রাডার ফাঁকি দেয়ার সক্ষমতাসম্পন্ন (স্টিলথ) না হলেও এটি যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশে কার্যকর। গ্রিপেন এমনভাবে তৈরি যে তীব্র শীতের মধ্যেও গ্লাভস পরে এর রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা সম্ভব। এছাড়া এফ-৩৫ জেটের মতো বড় বিমানঘাঁটির পরিবর্তে গ্রিপেন যেকোনো সোজা সড়ক বা হাইওয়ে থেকেও উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে।
আরও পড়ুন:
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ওলেক্সি আন্তোনিউক বলেন, ‘আমাদের বিমানঘাঁটিগুলো অক্ষত নেই। আমরা হাইওয়ে বা গোপন রানওয়ে ব্যবহার করি, আর গ্রিপেন ঠিক এই কাজের জন্যই তৈরি। মাত্র ছয়জনের একটি দল ১০ মিনিটের মধ্যে এটিতে জ্বালানি ভরে পরবর্তী মিশনের জন্য প্রস্তুত করতে পারে।’ এছাড়া গ্রিপেনের উড্ডয়ন খরচ এফ-৩৫ এর তুলনায় চার ভাগের এক ভাগ, যা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে বড় সুবিধা দিবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা এর কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেছেন। লন্ডনের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক জাস্টিন ব্রঙ্ক বলেন, রাশিয়ার শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে গ্রিপেন একাই আকাশপথে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এনে দিবে এমনটা ভাবা ঠিক হবে না। এছাড়া গ্রিপেনের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সুইডিশ কোম্পানি ‘সাব’ বর্তমানে বছরে মাত্র ১৫টি জেট তৈরি করতে পারে, যা তারা ৩০টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে।
১৯৮৮ সালে প্রথম উড্ডয়ন করা গ্রিপেন এক সময় দুর্ঘটনার কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছিল। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের পর এর চাহিদা তুঙ্গে উঠেছে। ব্রাজিলের পাশাপাশি এখন কানাডাও এই জেট কেনার কথা ভাবছে। সুইডেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাল জনসন মনে করেন, ইউক্রেনের সঙ্গে এই চুক্তি গ্রিপেনের জন্য একটি বৈশ্বিক মানদণ্ড তৈরি করবে এবং উন্নত প্রযুক্তির সরবরাহকারী হিসেবে সুইডেনের অবস্থান শক্ত করবে।




