এমন প্রেক্ষাপটে, গত ১৩–১৫ মে ট্রাম্পের চীন সফরের পরপরই ১৯–২০ মে ভ্লাদিমির পুতিনের বেইজিং সফর নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাশিয়া ও চীনের পরোক্ষ সমর্থনই ইরানকে মার্কিন বাহিনীর মোকাবিলা করে টিকে থাকতে শক্তি জোগাচ্ছে।
গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অভিন্ন অনাস্থা থেকে বেইজিং ও মস্কোর মধ্যে যে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তা এখন ট্রাম্পের সামনে বড় বাধা। ট্রাম্প এই যুদ্ধ থেকে সম্মানজনক প্রস্থান (অফ-র্যাম্প) চাইলে এই দুই দেশ কোনো ভূমিকা রাখবে কি না এবং বিনিময়ে তারা কী সুবিধা আদায় করবে, এখন সেদিকেই সবার নজর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেইজিং নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে তেহরানের কাছ থেকে বিপুল ছাড়ে অপরিশোধিত তেল কিনছে। আন্তর্জাতিক লেনদেন মাধ্যম ‘সুইফট’ এড়াতে এই তেলের দাম মেটানো হচ্ছে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে, যা ইরানের জন্য ছায়া সঞ্জীবনী হিসেবে কাজ করছে। অন্যদিকে মস্কো ইরানকে ‘পরোক্ষ সামরিক সহায়তা’ দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানের অবস্থান শনাক্ত করতে কৃত্রিম উপগ্রহের (স্যাটেলাইট) তথ্য সরবরাহ অন্যতম।
যুক্তরাষ্ট্র বেশ ভালো করেই জানে যে, চীন মূলত তেল কিনে ইরানের তহবিলের জোগান দিচ্ছে। ওয়াশিংটন এখন সেই পথ বন্ধ করার চেষ্টা করছে। গত এপ্রিলে ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর ড্রোনের গতিবিধি থেকে ইঙ্গিত মিলেছে যে, ভেনেজুয়েলা, ইরান ও মালাক্কা প্রণালি ঘিরে ওয়াশিংটন দীর্ঘমেয়াদে চীনকে ‘তেলহীন’ করার এক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
আরও পড়ুন:
ইরানকে রাশিয়ার সহায়তা নিয়ে এক প্রশ্নে ট্রাম্প নিজেও ফক্স নিউজকে বলেছেন, ‘মস্কো সম্ভবত তাদের কিছুটা সাহায্য করছে।’ মার্কিন থিঙ্কট্যাংক জেমসটাউন ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো পাভেল লুজিন জানান, রাশিয়ার ‘লিয়ানা’ নামক স্পাই স্যাটেলাইট সিস্টেম থেকে মার্কিন রণতরীর অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য পাচ্ছে ইরান।
তবে এই সামরিক বা অর্থনৈতিক সহায়তা মানেই কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট নয়। এটি মূলত একটি লেনদেনভিত্তিক সহযোগিতা। রাশিয়া বা চীন কেউই ইরানের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে না। বরং তারা এই সংকটের সুযোগ নিয়ে তাইওয়ান বা ইউক্রেন ইস্যুতে ন্যাটোর কাছ থেকে নিজেদের সুবিধামতো ছাড় আদায় করে নিতে চাইবে।
বেইজিং এরইমধ্যে ট্রাম্পের সফরের সময় সতর্ক করেছে যে, তাইওয়ান ইস্যুতে কোনো ‘ভুল পদক্ষেপ’ দুই দেশকে সরাসরি দ্বন্দ্বে ঠেলে দিতে পারে। অন্যদিকে মস্কোর লক্ষ্য থাকবে নিজেদের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা। বিশেষ করে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ায় বিশ্ববাজারে রুশ তেলের চাহিদা যে হারে বেড়েছে, পুতিন সেই সুযোগটিই কাজে লাগাতে চাইবেন।




