সরকারের সিদ্ধান্তে আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পর শনিবারও নতুন কোনো রোগী ভর্তি নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসার আশায় এসে অনেক রোগীকেই ফিরে যেতে হয়েছে হাসপাতাল থেকে। আর যারা ভর্তি আছেন, তাদের ও স্বজনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। রোগীর স্বজনরা জানান, রোগী নিয়ে কোথায় যাবেন তা এখনও জানেন না তারা।
লাইসেন্স বাতিলের পর রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা থাকায় আজ (শনিবার, ১৩ জুন) সকাল থেকেই অনেক রোগীকে অন্য হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তবে আইসিইউ, এনএসইউ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন সংকটাপন্ন রোগীদের স্থানান্তর ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তাদের চিকিৎসা আপাতত চালিয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল (শুক্রবার, ১২ জুন) এক নির্দেশনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের রোগীদের ঢাকার ছয়টি সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়। তবে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, বিকল্প হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট ও সেবার চাপ রয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যয় বহন করাও অনেকের পক্ষে সম্ভব নয়। তাদের প্রশ্ন, হঠাৎ এ সিদ্ধান্তের পর এখন তারা কোথায় যাবেন?
একজন রোগীর স্বজন বলেন, ‘লাইসেন্স বাতিল করা কোনোভাবে সমাধান না। আর সমস্যা কোথায় তা সমাধান করাই প্রধান কাজ। তা না করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।’
একদিকে অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে চার শতাধিক ভর্তি রোগী ও হাসপাতালটির শত শত কর্মীর ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। চাকরি হারানোর শঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাসপাতালের কর্মীরাও।
একজন ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, ‘অন্য সব হাসপাতালে যেখানে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লাগে ডেলিভারি রোগীর জন্য। সেখানে ২০ থেকে ২৫ হাজারের মধ্যে হয়ে যাচ্ছে। আমরা জনগণ এ হাসপাতালের জন্য দাঁড়াবো।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিভিন্ন বিভাগে চার শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে মাত্র এনএসইউতেই চিকিৎসাধীন আছেন ৪৬ জন রোগী।




