১৭ ও ১৯ বছর বয়সী দুই তরুণ বন্দুকধারীর এ হামলায় এক নিরাপত্তা প্রহরীসহ ৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক মুসল্লি নিহত হন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তীব্র অভিযানের মুখে পালানোর পথ না পেয়ে হামলাকারী দুই তরুণ নিজেদের গুলিতেই আত্মহত্যা করে। ফলে এ ঘটনায় দুই হামলাকারীসহ সর্বমোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ জনে।
তবে মসজিদের এক নিরাপত্তা প্রহরীর বীরত্বপূর্ণ ও নিজের জীবন উৎসর্গ করার কারণে শত শত শিশু-শিক্ষার্থীর প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।
সান ডিয়েগো পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, সোমবার বেলা ১১টা ৪৩ মিনিটে ইসলামিক সেন্টারে সক্রিয় বন্দুকধারীদের (অ্যাক্টিভ শুটার) উপস্থিতির খবর আসে। ঘটনার সময় মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত বেসরকারি মুসলিম স্কুল ‘ব্রাইট হরাইজন একাডেমি’তে প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণির শতাধিক শিশু ও শিক্ষার্থী ক্লাস করছিলো।
খবর পাওয়ার মাত্র ৪ মিনিটের মধ্যে ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পুলিশ ও সোয়াত টিম দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি স্কুল তাৎক্ষণিকভাবে লকডাউন করে দেয়া হয়।
পুলিশের অভিযান চলাকালীন আকাশ থেকে ধারণ করা গণমাধ্যমের ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, আতঙ্কিত শিশুদের হাত ধরে সশস্ত্র অফিসাররা এক সারিতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সান ডিয়েগোর পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন মসজিদের কর্তব্যরত সাহসী নিরাপত্তা প্রহরী। দুই সশস্ত্র হামলাকারী যখন ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলো, তখন তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
পুলিশ প্রধান বলেন, ‘ওই নিরাপত্তা প্রহরী যদি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা না রাখতেন, তবে আজ সেখানে আরও বড় আকারের রক্তবন্যা বয়ে যেতে পারতো। পুলিশের তাড়া খেয়ে মসজিদের বাইরে কয়েক ব্লক দূরে এক হামলাকারী এবং অপরজন একটি গাড়ির ভেতর নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেন।’
আরও পড়ুন:
তদন্তে অংশ নেয়া এফবিআইয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ জঘন্য হামলার পেছনে মোটিভ বা উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিত নয়। এটি বর্ণবাদী ঘৃণামূলক অপরাধ (হেট ক্রাইম), সন্ত্রাসবাদ নাকি ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্ব, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর এক আবেগঘন ভিডিও বার্তায় সব শিশু, শিক্ষক এবং স্টাফরা আল্লাহর রহমতে নিরাপদ আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মসজিদের দীর্ঘদিনের পরিচালক ইমাম তাহা হাসানে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে ইসলামিক সেন্টারটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ পৈশাচিক হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিক ও মুসলিম সমাজসহ বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। হাউস মাইনোরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিস এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ‘ইসলামোফোবিয়া’ বা মুসলিমবিদ্বেষী ঘৃণাকে গুঁড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এবং পেনসিলভেনিয়ার গভর্নর জোশ শাপিরো গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘উপাসনালয়ে মানুষের মনে এমন ভীতি তৈরি হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। ক্যালিফোর্নিয়ায় ঘৃণার কোনো স্থান নেই।
জানা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ হামলার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক অবহিত করা হচ্ছে।
এছাড়া সান ডিয়েগোর এ ভয়াবহ ঘটনার পর কোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিউ ইয়র্ক এবং লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ পৃথক বিবৃতি দিয়ে শহরের সমস্ত মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন ও বিশেষ নিরাপত্তা টহল জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে।





