আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়া পর বাংলাদেশের জামাতিদের চিড়বিড়ানি অনেক বেড়েছে: শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী | ছবি: সংগৃহীত
0

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিআইএমের মতো দলগুলো যতটা না লাফালাফি করছে, তার থেকে বেশি লাফালাফি করছে বাংলাদেশের জামাতিরা। আজ (সোমবার, ১৮ মে) সন্ধ্যায় ভবানীপুর আসানের অন্তর্গত ৬০ নম্বর ওয়ার্ডে ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু এসব বলেন।

সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম আসন থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু। এর মধ্যে ভবানীপুর আসনে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে তিনি হারিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে।

অন্যদিকে নন্দীগ্রাম আসন থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেই শুভেন্দু এদিন বলেন, ‘সকল ধর্মের মানুষরা ভোট দিয়ে আমাকে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে জিতিয়েছেন। আমি এ ঋণ শোধ করবো। আমাকে দুই তিন সপ্তাহ সময় দিন, মাত্র ১০ দিন হয়েছে, আরও দশ দিন সময় দেন। আপনারা যা যা ভেবেছেন আমরা এক এক করে সেটা করছি।’

এ সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগের সরকার ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) চালু করতে দেয়নি। আমরা চালু করেছি। আমাদের কাজ সীমান্তকে সুরক্ষিত করা, অ-ভারতীয়, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দরজা দেখিয়ে দেওয়া। অনুপ্রবেশকারী উৎখাত করতে হবে। যে রাস্তা ধরে এসেছিলেন সেই রাস্তা ধরে বাংলাদেশ ফিরে যান। শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় রাজ্যের কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিআইএম যত না চিড়বিড়ানি (অস্বস্তি) করছে, শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে বাংলাদেশের জামাতিদের চিড়বিড়ানি অনেক বেশি হয়ে গেছে। আরে ভাই আমি ভয় পাওয়ার লোক নই। মাথা নত করারও লোক নই। আমাকে ভয় দেখানোর কোন প্রয়োজন নেই। বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা পূরণ করার দায়িত্ব বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে সবার প্রথমে রাষ্ট্র। দেশকে সুরক্ষিত করার কাজ বিজেপি সরকার করবে। প্রথমে ভোটার তালিকায় সনাক্ত হয়ে গেছে, এরপরে ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাতিল হয়ে গেছে। এবার তাদের ফেরত পাঠানোর সময় এসেছে। প্রত্যর্পণের সময় চলে এসেছে।’

গতকাল (রোববার, ১৭ মে) কলকাতার পার্ক সার্কাসে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, ‘আপনাদের এর ফল ভুগতেই হবে। পুলিশের উপর যদি ইট, পাথর ছোড়া হয়, তবে তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়ার কাজ বিজেপির সরকার করবে। আসানসোলের পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছিল। ২০০ শতাংশ উসুল করব। যারা এই কাজ করেছে তাদেরকে গ্রেফতার করে তাদের কাছ থেকে এ ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে।’

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও মমতার ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জি সহ চার ব্যক্তির নাম নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন এদের একাধিক সম্পত্তি রয়েছে। তারও সেইসব সম্পত্তিরও তদন্ত হবে। তিনি বলেন এ মানুষগুলো এতদিন ধরে লুট করে এসেছে। আগামী দিনে এই সমস্ত দুর্নীতিবাজদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারাগারের পাঠানোর কাজ করবে।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, 'কোনো সরকারের কাজ কি ইমাম, মোয়াজ্জেমদের ভাতা প্রদান করা? না শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নতি করা? না তাদের চাকরি প্রদান করা? আজকে আমরা ক্যাবিনেট বৈঠক থেকে ধর্মীয় ভিত্তিতে প্রদেয় সমস্ত ভাতা প্রদান বন্ধ করে দিয়েছি। যে রুপি ভাতায় দেওয়া হতো, তা এখন বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ প্রকল্পে দেওয়া হবে। এর ফলে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান সমস্ত ধর্মের শিক্ষার্থীরা এর সুবিধা পাবেন। কিন্তু বাংলায় তোষণের রাজনীতি চলবে না।’

এএইচ