যুক্তরাজ্যের কাউন্সিল নির্বাচনে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভিত নড়িয়ে দিয়েছে ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকে। ইংল্যান্ডের ১৩৬টি কাউন্সিলে জন্য ৫ হাজার আসনে প্রাপ্ত ফলাফলে একাই জিতেছে ১ হাজার ৪৫৩ আসন। বিপরীতে লেবার পার্টি পেয়েছে ১ হাজার ৬৮ আসন। স্কটল্যান্ডে আর ওয়েলসেও ক্ষমতাসীনদের সমানে সমানে টক্কর দিয়েছে রিফর্ম ইউকে।
ফলাফলের ধাক্কা সামলানো ছাড়াও এখন ক্ষমতায় টিকে থাকা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই আভাস এবং আল্টিমেটাম দুটোই পাওয়া গেছে সাবেক মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্টের রেডিও ফোরের সাক্ষাৎকারে। সোমবারের মধ্যে দায়িত্ব না ছাড়লে স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানাবেন বলে সাফ জানিয়েছেন লেবার পার্টির ক্যাথরিন। এই সাক্ষাৎকারের পর হৈচৈ শুরু হয়েছে ওয়েস্টমিনস্টারেও।
অর্থনীতির দুরবস্থা-জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ডানপন্থী দলের পুনর্বিন্যাস আর মুসলিম ভোট ব্যাংক হারানোসহ আরও কিছু স্থানীয় ইস্যুকে লেবার পার্টির হারের কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সাক্ষাৎকারে ক্যাথরিন বলছেন, লেবার পার্টির অনেক এমপি এই ফলাফল আশা করেনি। অনেক পরিশ্রমী কাউন্সিলর হেরে যাওয়ায় আত্মবিশ্বাস হারিয়েছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। আবার অনেকেই মনে করেন, ভোটের ফলাফল লেবার পার্টির প্রতি দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে অপসারণ করতে লেবার পার্টির ২০ শতাংশ এমপি অর্থাৎ ৮১ জনের সমর্থন প্রয়োজন যদিও এখনও পর্যন্ত ১০ জনের বেশি পার্লামেন্ট মেম্বারকে দলে আনতে পারেননি সাবেক মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট। এক্ষেত্রে স্টারমার প্রশাসনের আস্থাভাজনরা দাবি করছেন, ক্যাথরিন বাকি ৭০ জন এমপির সমর্থন আদায় করতে পারবেন না।
আরও পড়ুন:
বিবিসির বিশ্লেষণ, স্টারমারের জায়গা নিতে পারেন ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। চলতি বছরের শুরুতে একটি উপ-নির্বাচনে অ্যান্ডিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেয়া হয়নি, কারণ লেবার পার্টির আশঙ্কা ছিল জিতলে স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ করবেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। বার্নহ্যামের সমর্থকরা চান স্টারমার যেন পদত্যাগের একটি সময়সূচী ঘোষণা করেন। এতে করে বার্নহ্যামের জন্য পার্লামেন্টে ফিরে আসার পথ সহজ হবে। আর, এ ক্ষেত্রে একটি উপনির্বাচন প্রয়োজন হবে। কিন্তু এখনই সেই নির্বাচন হলে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সেখানে অংশ নিতে পারবেন না কারণ তিনি পার্লামেন্ট মেম্বার নন, আর এমপি না হলে দলের প্রধান নির্বাচিত হতে পারবেন না অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
যদিও বিশ্লেষকরা মনে করেন এক-দুইজন সদস্যের আপত্তিতে ক্ষমতা হারানোর শঙ্কা নেই স্টারমারের। তবে হেভিওয়েট পার্লামেন্ট সদস্যরা পদত্যাগ করলে বিপদে পড়ে যাবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা। কারণ তখন অনেকেই স্টারমারের বিরুদ্ধে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস ও ভিত্তি পাবেন। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা হতে পারে অনাস্থা প্রস্তাব।
যদিও আগামী নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেয়া এবং দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার ব্যাপারে এখনও আত্মবিশ্বাসী কিয়ার স্টারমার। আগামী সোমবার বিশেষ এক ভাষণে নিজের লক্ষ্য স্পষ্ট করবেন তিনি। বুধবার পার্লামেন্টের নতুন অধিবেশনে আগামী বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরবে লেবার পার্টি।





