গতকাল গভীর রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়, যেখানে ইরানি কমান্ডোদের একটি বিশাল কার্গো জাহাজ দখল করতে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা গেছে, মুখে মাস্ক পরা একদল সশস্ত্র কমান্ডো ধূসর রঙের একটি স্পিডবোটে করে ‘এমএসসি ফ্রানচেস্কা’ জাহাজের পাশে পৌঁছান। এরপর তারা রশি বেয়ে জাহাজের হুলে উঠে ভেতরে প্রবেশ করেন।
এই ভিডিওতে লিবারিয়া পতাকাবেহী ‘এপামিনোন্ডাস’ নামের আরেকটি জাহাজের দৃশ্যও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইরান দাবি করেছে, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই প্রণালিটি অতিক্রমের চেষ্টা করায় জাহাজ দুটিকে আটক করা হয়েছে।
জব্দকৃত জাহাজ দুটির একটি ‘এমএসসি ফ্রানচেস্কা’ পরিচালনা করে বিশ্বের বৃহত্তম কন্টেইনার শিপিং গ্রুপ ‘এমএসসি’। এই জাহাজের ক্যাপ্টেনসহ চারজন নাবিক মন্টিনিগ্রোর নাগরিক। মন্টিনিগ্রোর সামুদ্রিক বিষয়ক মন্ত্রী ফিলিপ রাদুলোভিচ দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরটিসিজিকে জানিয়েছেন, ‘এমএসসি এবং ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। আমাদের নাবিকরা ভালো আছেন।’
এদিকে জাহাজের এক নাবিকের আত্মীয় রয়টার্সকে বলেন, ‘প্রায় ২০ জন সশস্ত্র ইরানি সেনা জাহাজটিতে উঠে এর নিয়ন্ত্রণ নেয়। বর্তমানে নাবিকরা ইরানিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন এবং জাহাজে তাদের চলাচল সীমিত। তবে ইরানিরা তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়াশিংটন যখন আশা করেছিল আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া সম্ভব হবে, তখন এই ভিডিও প্রকাশ করে ইরান বিশ্বকে তাদের সামরিক শক্তির বার্তা দিলো। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের বিপরীতে তেহরান এই জলপথকে তাদের ‘কঠোর নিয়ন্ত্রণে’ নেয়ার যে ঘোষণা দিয়েছিল, এই ভিডিওটি তারই বহিঃপ্রকাশ। বর্তমানে এমএসসির সঙ্গে ইরানের আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।





