গত পাঁচ সপ্তাহের সংঘাতে সৃষ্ট হরমুজ প্রণালিতে এই বিঘ্ন বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে, জ্বালানির দাম অস্থির করেছে এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা হরমুজ প্রণালির ওপর কতটা নির্ভরশীল, তা স্পষ্ট করেছে।
জ্বালানির পাশাপাশি মাইক্রোচিপ, ওষুধ ও সার তৈরিতে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পরিবহনেও এই পথ গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধবিরতির খবরে তেলের দাম শুরুতে কমলেও পরে তা আবার বেড়ে যায়।
বিবিসি ভেরিফাই ও মেরিন ট্রাফিকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯ এপ্রিল ব্রিটিশ সামার টাইম অনুসারে বেলা ২টা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির পর মাত্র ১১টি জাহাজ—তিনটি ট্যাংকার, একটি কনটেইনার জাহাজ ও সাতটি বাল্ক ক্যারিয়ার—প্রণালি অতিক্রম করেছে। সংঘাত শুরুর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গড়ে দৈনিক ১৩৮টি জাহাজ এ পথ ব্যবহার করতো।
যে জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি পার হতে পেরিয়েছে, সেগুলো যুদ্ধবিরতির ফল নাকি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, জাহাজগুলো ইরানের উপকূলঘেঁষা উত্তর রুটে চলেছে, যা দেশটির আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে; আগে জাহাজগুলো মাঝ বরাবর দক্ষিণ রুট ব্যবহার করতো।
শিপিং বিশ্লেষকদের আশঙ্কা করছেন, আপাতত জাহাজ চলাচল খুবই সীমিত থাকবে। লয়েডস লিস্ট-এর প্রধান সম্পাদক রিচার্ড মিড বলেন, ‘প্রায় ৮০০ জাহাজ কয়েক সপ্তাহ ধরে সেখানে আটকে আছে, যেগুলোর বেশির ভাগই কার্গোতে পূর্ণ।’ বিআইএমসিও-এর নিলস রাসমুসেন বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি দুই সপ্তাহের হওয়ায় অনেক জাহাজ উপসাগরে ঢোকার ঝুঁকি নিতে চাইবে না।’
অন্যদিকে সমুদ্রপথে মাইন বসানোর শঙ্কা এবং ইরানকে টোল দেয়ার সম্ভাবনাও অনিশ্চয়তাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়েছে। ভারত, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো কয়েকটি দেশ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নিজেদের জাহাজের জন্য নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করেছে। তবে শিপিং আইনজীবীদের মতে, টোল পরিশোধ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এখনো প্রণালি দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়নি বলে জানা যায় বিশেষজ্ঞদের থেকে।





