ইরানকে কোণঠাসা করতে রাজধানী তেহরানের প্রতিরক্ষা ও নজরদারি স্থাপনা, আইআরজিসি'র অপারেটিং পয়েন্ট, পুলিশ স্টেশন, বেসামরিক ভবন লক্ষ্য করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। ইরানের দাবি, গত ৬ দিনের এই হামলায় সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি বেসামরিক ভবন-স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে বসে নেই ইরানও। যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে বিপ্লবী গার্ড কর্পস। যা অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন। এছাড়াও, মধ্যপ্রাচ্যের কাতার ও ইরাকে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে মুহুর্মুহু পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। সর্বোচ্চ জরুরি সতর্কতা জারি করে বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ কাতারের। সবশেষ ইরাকের ইরবিলে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা করেছে আইআরজিসি।
বৃহস্পতিবার প্রথমবার হামলার কবলে পড়েছে আজারবাইজান। ড্রোন হামলার ঘটনায় ইরানের রাষ্ট্রদূতকে জরুরি তলবও করলেও এর দায় অস্বীকার করেছে ইরান। এর আগে বুধবার তুরস্কের দিকে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করে ন্যাটো। তবে এই হামলার দায়ও অস্বীকার করেছে আইআরজিসি।
এছাড়াও, মার্কিন তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। আর, শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানি যুদ্ধজাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন হামলার প্রতিশোধ নেয়ারও হুমকি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের।
আরও পড়ুন:
যুদ্ধপরিস্থিতিতে ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ১২০ ঘন্টা ছাড়িয়েছে। শত্রুপক্ষের হামলায় বিভিন্ন স্থানে থাকা পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি ইরানের।
এদিকে লেবাননেও হামলা তীব্র করেছে ইসরাইলি বাহিনী। এরই মধ্যে প্রাণহানির সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। হামলায় লেবাননে অন্তত ৩ লাখ বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে বাড়ানো হচ্ছে ইসরাইলি সেনা উপস্থিতি। নতুন হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে এই অঞ্চলটি থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ ইসরাইলের।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের পর এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াচ্ছে ব্রিটেনও। ব্রিটিশ সেনাদের ঘাঁটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা অভিযান চালানোর অনুমতি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। আর মিত্র দেশ কাতারে অতিরিক্ত ৪টি যুদ্ধ বিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। আর খামেনির মৃত্যুর ৫ দিনের মাথায় শোক জানিয়েছে ভারত।
এছাড়াও, ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু আরব দেশের লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে ইরানকে উসকে দেয়া হচ্ছে বলেও দাবি মস্কোর। তবে যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করা জন্য চেষ্টা জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছে চীন। দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ওমানও। ইরান ইউরোপের জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে বলে সতর্ক করেছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো।




