সেন্ট লুইস থেকে ইন্ডিয়ানাপলিস, সিনসিনাটি থেকে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া- ঘন তুষারে ঢাকা পড়েছে দক্ষিণ থেকে উত্তরপূর্বাঞ্চল। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকালে আঘাত হানা শীতকালীন তীব্র ঝড়ে বিপর্যস্ত মার্কিন মুলুকের ২০ কোটি বাসিন্দা, যা মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি।
মার্কিন আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, শনিবার সকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলে আরও বাড়বে তুষারপাতের তীব্রতা। এরই মধ্যে টেক্সাস থেকে আরাকানসাস ও টেনেসির প্রায় ১৩ মাইল এলাকা ছেয়ে গেছে ঘন তুষারে। ধারণা করা হচ্ছে, রোববার স্থানীয় সময় বিকাল থেকে নিউ ইয়র্ক সিটিতে শুরু হতে পারে তীব্র তুষারপাত, আর রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে নামতে পারে হিমশীতল বৃষ্টি।
আগেভাগেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে জরুরি সরঞ্জাম, জনবল এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি। হাড়কাঁপানো এই শীতে হাইপোথারমিয়া ও ফ্রস্টবাইটে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকায়, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসিন্দাদের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।
রাস্তায় বরফ জমে থাকায় যানচলাচল ব্যবহৃত হওয়া ছাড়াও মারাত্মক এই ঝড়ে ব্যাপকহারে বিঘ্নিত হচ্ছে বিমান পরিষেবা। সিএনএন জানিয়েছে, এরই মধ্যে বাতিল করা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ফ্লাইট। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার বলছে, কোভিড মহামারির পর এটাই সর্বোচ্চসংখ্যক ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা। এছাড়া, একদিন আগেই রোববারের সব ফ্লাইট করেছে রোনাল্ড রেগান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন:
আবহাওয়া বিপর্যয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে স্থানীয় সুপারমার্কেটগুলোতে। এরই মধ্যে প্রায় খালি হয়ে গেছে নিত্যপণ্যের প্যাভিলিয়ন। টেক্সাস ও লুইজিয়ানাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। ঝড়ের কবলে পড়া অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রলয়ংকরী এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাসী হওয়ার বার্তা দিয়েছেন নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো কানাডায়ও আঘাত হেনেছে শীতকালীন ঝড়। তীব্র শৈত্য প্রবাহ ও তুষারপাতে বিলম্বিত ও বাতিল হয়েছে বেশকিছু ফ্লাইট। শনিবার টরন্টো ও অটোয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যথাক্রমে মাইনাস ৩০ ও মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অন্যদিকে, ভারতের হিমাচল প্রদেশের পর্যটননগরী মানালিতে তীব্র তুষারপাতে যানচলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রোববার সকালে মানালি থেকে কোঠিগামী মহাসড়কে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এমন অবস্থায় মানালি থেকে বের হতে পারছেন না পর্যটকরা। চাপ এতটাই বেশি যে এরই মধ্যে সব ধরনের বুকিং বন্ধ করে দিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।




