চীনের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় জিগং শহরে জ্বলে উঠেছে চীনা পৌরাণিক কল্পকাহিনির নানা চরিত্রের পাশাপাশি, আসছে বছরের প্রতীক-ঘোড়ার আদলে তৈরি রঙ-বেরঙের বাহারি লন্ঠন। প্রতীক অনুযায়ী, চীনের জন্য শক্তি, স্বাধীনতা, মুক্তি, গতি, সাফল্য, প্রাণশক্তিতে ভরপুর সামনে এগিয়ে যাওয়ার বছর এটি।
ঘুরতে আসা একজন বলেন, ‘আমার কাছে এ শহরকে নতুন চান্দ্রবর্ষের উৎসবের কেন্দ্র বলে মনে হয়। তার ওপর এই বছরটি আমার রাশিচক্রের বছর, তাই আরও বেশি আকর্ষণ কাজ করছে পেছনে, এই ঘোড়ার লন্ঠনটা আমার খুব ভালো লেগেছে।’
রাতের আঁধারের নিস্তব্ধতা ভেঙে ঝলমলে শয়ে শয়ে লন্ঠন মুগ্ধ করছে দর্শকদের। চতুর্দিকে উৎসবের আমেজ। নানারকম প্রাণী, পৌরাণিক চরিত্র আর চীনা সংস্কৃতির দৃশ্যসম্বলিত ছবি নিয়ে ২শর বেশি হাতে তৈরি লন্ঠনে পরিবেশে এক ভিন্ন মাত্রা।
আরও পড়ুন:
আরেকজন ভ্রমণকারী বলেন, ‘আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমার বাবা-মা প্রায় প্রতি বছর আমাকে জিগং লন্ঠন উৎসবে নিয়ে আসতেন। বহু বছরের ব্যবধানে উৎসবের ধরন অনেকটা বদলেছে। আমাদের জিগং আদিবাসীদের জন্য এই উৎসব চান্দ্র নববর্ষ উদযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখন আমি আমার বাচ্চাকে উৎসব দেখতে নিয়ে আসি।’
প্রদর্শনীতে ঠাঁই পেয়েছে কুনপেং নামের পৌরাণিক চরিত্রের একটি ২১০ মিটার এবং চীনা কিংবদন্তি ও লোককাহিনির নায়িকা চরিত্র মুলানের ১৮০ মিটার দীর্ঘ দু'টি লন্ঠন। পুরো প্রদর্শনীতে ব্যবহৃত সব লন্ঠন তৈরি করতে ১২শ কর্মীর সময় লেগেছে কয়েক সপ্তাহ। চীনের সিচুয়ান প্রদেশের জিগং শহরে এক হাজার বছরের বেশি সময় ধরে আয়োজিত হয়ে আসছে এই লন্ঠন উৎসব।
আরেকজন বলেন, ‘উদ্যানজুড়ে এই আলোকসজ্জা সত্যিই অসাধারণ। অশ্ববর্ষের দ্রুতগতির চেতনার প্রতীক হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।’
শুক্রবার শুরু হওয়া উৎসবটি স্থায়ী হবে কমপক্ষে আরও পাঁচ সপ্তাহ। ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন চান্দ্রবর্ষ শুরু হওয়ারও বেশ কিছুদিন পরে, নববর্ষের উৎসবের শেষ দিনে ইউয়ানশিয়াও উৎসব নামের একদিনের কার্নিভ্যাল শুরুর মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে জিগং লন্ঠন উৎসবের।
