একনজরে স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড (Quick Specs)
বৈশিষ্ট্য (Features) বিস্তারিত তথ্য (Details) ডিসপ্লে সাইজ ১০ ইঞ্চি (পুরো খোলা অবস্থায়) মডেলের নাম গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড (Galaxy Z Tri-Fold) আনুমানিক মূল্য "২,৪৪০ মার্কিন ডলার" চার্জিং সুবিধা ৩০ মিনিটে ৫০% চার্জ প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হুয়াওয়ে ট্রাই-ফোল্ড
বিশাল ডিসপ্লে ও ডিজাইন (Large Display and Design)
নতুন এই ডিভাইসের প্রধান আকর্ষণ হলো এর মাল্টি-ফোল্ডিং প্রযুক্তি। তিনটি আলাদা প্যানেল ভাঁজ খুললে এটি ১০ ইঞ্চির একটি বিশাল ডিসপ্লেতে (10-inch Large Screen) রূপান্তরিত হয়। এটি স্যামসাংয়ের আগের মডেল গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৭-এর তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বড়। বিশ্লেষকদের মতে, হুয়াওয়ের তিন ভাঁজ ফোনের সাথে সরাসরি পাল্লা দিতেই স্যামসাংয়ের এই পদক্ষেপ।
আরও পড়ুন:
গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড ফোনের দাম ও ব্যাটারি পারফরম্যান্স (Price and Battery Performance)
অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই ডিভাইসের দামও রাখা হয়েছে আকাশচুম্বী। দক্ষিণ কোরিয়ায় এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩.৫৯ মিলিয়ন ওন, যা মার্কিন ডলারে প্রায় ২,৪৪০ ডলার (Price around $2,440)।
ব্যাটারি: এতে ব্যবহার করা হয়েছে ফ্ল্যাগশিপ সিরিজের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাটারি।
চার্জিং: মাত্র ৩০ মিনিটেই ৫০ শতাংশ চার্জ (50% charge in 30 minutes) করার দ্রুত চার্জিং প্রযুক্তি রয়েছে এতে।
বাজারজাতের সময়সূচী (Global Release Schedule)
গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড প্রথমে ১২ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ায় বিক্রি শুরু হয়েছে। এরপর চীন, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাজারে পাওয়া যাবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বাজারে এটি ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (Expected release in early 2026) পৌঁছাতে পারে।
আরও পড়ুন:
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ (Expert Insights)
এনএইচ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড সিকিউরিটিজের মতে, এটি প্রথম প্রজন্মের ট্রাইফোল্ড হওয়ায় এর স্থায়িত্ব বা টেকসইতা (Durability and Reliability) নিয়ে ব্যবহারকারীদের মাঝে কৌতূহল থাকবে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ বলছে, ২০২৭ সাল নাগাদ ফোল্ডেবল ফোনের বাজার মোট স্মার্টফোন বাজারের ৩ শতাংশের নিচে থাকলেও স্যামসাং বর্তমানে এই সেক্টরে ৬৪ শতাংশ শিপমেন্ট শেয়ার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে।
বাংলাদেশে এই ফোনের দাম কত হতে পারে?
বাংলাদেশি টাকায় কনভার্ট করলে এবং বর্তমান ডলার রেট (১ ডলার = ১২০ টাকা ধরে) অনুযায়ী এর দাম সরাসরি আসে প্রায় ২,৯২,৮০০ টাকা। তবে এর সাথে আমদানিকৃত কর (Import Tax), ভ্যাট এবং ডিলার প্রফিট যুক্ত করলে বাংলাদেশে এর দাম অনেক বেশি হবে।
সম্ভাব্য মূল্য (আনুমানিক): ৩,২৫,০০০ থেকে ৩,৫০,০০০ টাকা।
আরও পড়ুন:
কেন গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড ফোনের দাম এত বেশি?
১. তিন ভাঁজের উন্নত প্রযুক্তি: এতে তিনটি আলাদা প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে যা খুললে ১০ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে পাওয়া যায়।
২. ১০ ইঞ্চি বিশাল ডিসপ্লে: সাধারণ ফোল্ডেবল ফোনের চেয়ে এর স্ক্রিন প্রায় ২৫% বড়।
৩. সীমিত উৎপাদন: এটি সাধারণ গ্রাহকদের চেয়ে প্রিমিয়াম এবং টেক-লাভারদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে, তাই এর উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি।
৪. ফ্ল্যাগশিপ ব্যাটারি ও চিপসেট: ফোনের ডিসপ্লে বড় হওয়ায় এতে সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাটারি এবং প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড নিয়ে জনপ্রিয় প্রশ্নোত্তর-FAQ
প্রশ্ন: স্যামসাংয়ের তিন ভাঁজ ফোনের নাম কী?
উত্তর: এই ফোনের অফিশিয়াল নাম স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড (Samsung Galaxy Z TriFold)।
প্রশ্ন: ফোনটি পুরোপুরি খুললে ডিসপ্লের সাইজ কত হয়?
উত্তর: ফোনটি পুরোপুরি খুললে এটি ১০ ইঞ্চির (QXGA+) একটি বিশাল ট্যাবলেটের মতো স্ক্রিনে পরিণত হয়।
প্রশ্ন: ফোনটি ভাঁজ করা অবস্থায় সামনের স্ক্রিন কত বড়?
উত্তর: ভাঁজ করা অবস্থায় বা কভার স্ক্রিন হিসেবে এতে ৬.৫ ইঞ্চির (FHD+) ডিসপ্লে পাওয়া যায়।
প্রশ্ন: এই ফোনে ক্যামেরা সেটআপ কেমন?
উত্তর: এতে রয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেল মেইন ক্যামেরা, ১০ মেগাপিক্সেল টেলিফটো (৩ গুণ অপটিক্যাল জুম) এবং ১২ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা।
প্রশ্ন: ট্রাইফোল্ড ফোনে ব্যাটারি কত এমএএইচ (mAh)?
উত্তর: স্যামসাং এতে ৫,৬০০ এমএএইচ (mAh) এর শক্তিশালী তিন-সেলের ব্যাটারি ব্যবহার করেছে, যা তাদের ফোল্ডেবল ফোনের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড়।
প্রশ্ন: ফোনটি কি খুব মোটা বা ভারী?
উত্তর: ফোনটির ওজন প্রায় ৩০৯ গ্রাম। তবে খোলা অবস্থায় এটি আশ্চর্যজনকভাবে পাতলা, যার পুরুত্ব মাত্র ৩.৯ মিমি। ভাঁজ করা অবস্থায় এর পুরুত্ব ১২.৯ মিমি।
প্রশ্ন: এতে কোন প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে?
উত্তর: এতে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী Snapdragon 8 Elite (৩ ন্যানোমিটার) প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রশ্ন: ফোনটি কি পানি বা ধুলাবালি থেকে সুরক্ষিত?
উত্তর: হ্যাঁ, এটি IP48 রেটিং প্রাপ্ত, অর্থাৎ এটি পানি এবং ১ মিলিমিটারের চেয়ে বড় ধূলিকণা থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।
প্রশ্ন: স্যামসাং ট্রাইফোল্ড ফোনে কত জিবি র্যাম ও স্টোরেজ আছে?
উত্তর: ফোনটিতে ১৬ জিবি র্যাম এবং ৫১২ জিবি থেকে ১ টেরাবাইট (TB) পর্যন্ত ইন্টারনাল স্টোরেজ রয়েছে।
প্রশ্ন: এতে চার্জিং স্পিড কেমন পাওয়া যাবে?
উত্তর: এটি ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট করে, যা দিয়ে মাত্র ৩০ মিনিটে ৫০ শতাংশ চার্জ করা সম্ভব। এছাড়া ১৫ ওয়াট ওয়ারলেস চার্জিং সুবিধাও আছে।
প্রশ্ন: ফোনটির ডিসপ্লে কত উজ্জ্বল (Brightness)?
উত্তর: কভার স্ক্রিনে সর্বোচ্চ ২৬০০ নিটস এবং মেইন স্ক্রিনে ১৬০০ নিটস পর্যন্ত ব্রাইটনেস পাওয়া যায়, যা কড়া রোদেও স্বচ্ছ ভিউ নিশ্চিত করে।
প্রশ্ন: এই ফোনে কি এস-পেন (S-Pen) ব্যবহার করা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, স্যামসাংয়ের এই বড় ডিসপ্লেতে মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য এস-পেন ব্যবহারের সুবিধা রাখা হয়েছে।
প্রশ্ন: ফোনটি কি বর্তমানে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে?
উত্তর: এটি ১২ ডিসেম্বর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় বিক্রি শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে এটি আন্তর্জাতিক বাজারে পাওয়া যাবে।
প্রশ্ন: এই ফোনের দাম কত হতে পারে?
উত্তর: দক্ষিণ কোরিয়ায় এর দাম রাখা হয়েছে প্রায় ৩.৫৯ মিলিয়ন ওন। মার্কিন ডলারে যা প্রায় ২,৪৪০ থেকে ২,৫০০ ডলার (ট্যাক্স বাদে)।
প্রশ্ন: এর হিঞ্জ বা ভাঁজ করার অংশটি কি টেকসই?
উত্তর: স্যামসাং দাবি করেছে, এর টাইটানিয়াম হিঞ্জ এবং আর্মার অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম অত্যন্ত মজবুত এবং এটি ২ লাখ বার ভাঁজ করার পরীক্ষায় সফল হয়েছে।

