যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার পোস্টাল ভোট দিচ্ছেন ৩১ হাজার বাংলাদেশি

নিউ জার্সির ইউনিয়ন এভিনিউ এলাকা
নিউ জার্সির ইউনিয়ন এভিনিউ এলাকা | ছবি: এখন টিভি
0

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় যুক্ত হলো এক অনন্য মাইলফলক। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে, প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বিদেশের মাটিতে বসেই দেশের ভাগ্য নির্ধারণের এই সুযোগকে ঘিরে প্রবাসীদের মধ্যে বইছে উৎসবের আমেজ।

৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান কেবল ক্ষমতার রদবদলই নয়, বরং আমূল বদলে দিয়েছে রাষ্ট্রের নাগরিক চিন্তা। যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্নে রাজপথে প্রাণ দিয়েছিলো হাজারো তরুণ, সেই স্বপ্ন বুননে এবার সরাসরি যুক্ত হলেন প্রবাসীরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ায় প্রবাসের জনপদগুলোতে এখন সাজ সাজ রব।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছেন ৭ লাখের প্রবাসী। যার মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্র থেকেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন প্রায় ৩১ হাজারের বেশি বাংলাদেশি। নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকা থেকে ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট পেপারগুলো এখন ভোটারদের হাতে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা পূরণ করে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ফেরত পাঠাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

অনলাইনে ভোটার রেজিস্ট্রেশনে এবার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন স্থানীয় মসজিদের ইমামরা। জুমার খুতবা ও বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনায় ভোটার সচেতনতা বাড়াতে কাজ করেছেন তারা।

আরও পড়ুন:

প্যাটারসন, নিউ জার্সির মসজিদ আল-আদমের ইমাম হাফিজ আব্দুস শাকিল বলেন, ‘অনেকেই রেজিস্ট্রেশন করতে পারছে না। তারা আমাদের কাছে আবেদন করেছিলেন, সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আমাদের ইয়ুথ টিমকে দিয়ে একটি ক্যাম্পের মাধ্যমে সবাই সহযোগিতা করেছি।’

প্যাটারসন, নিউ জার্সির মসজিদ আল-আদমের আরেক ইমাম আব্দুল মান্নান বলেন, ‘এবার দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজ মুক্ত একটি সরকার আসবে বলে আশা রাখছি। ’

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২৫ জানুয়ারির মধ্যেই পোস্টাল ব্যালটগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৌঁছাতে হবে। সময় স্বল্পতার কথা মাথায় রেখে ব্যালট দ্রুত প্রেরণের তাগিদ দিয়েছে ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস।

ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে সতর্ক করা হয়েছে, পোস্টাল ব্যালট যার নামে এসেছে, তাকেই দিতে হবে। যদি কেউ বাসায় না থাকেন, তাহলে পোস্টাল অফিস একটি কাগজ রেখে যাবে, সেটাও না পেলে কাছের পোস্ট অফিস থেকে সংগ্রহ করে নিতে হবে।’

এবারের ভোট কেবল প্রতিনিধি নির্বাচনের লড়াই নয়, বরং রাষ্ট্রকাঠামো আমূল পরিবর্তনের রায়। সংবিধানের প্রস্তাবিত সংস্কার নিয়ে ‘হ্যাঁ-না’ ভোটেও অংশ নিচ্ছেন প্রবাসীরা। তারা বলছেন, উন্নত বিশ্বের গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতার প্রতিফলন এখন দেখতে চান বাংলাদেশের শাসনতন্ত্রে।

এএম