হাম হলে করণীয় কী, জেনে নিন

হাম হলে করণীয় কী
হাম হলে করণীয় কী | ছবি: এখন টিভি
0

দেশে বর্তমানে হামের সংক্রমণ (Measles Outbreak) আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুদের মধ্যে এই ভাইরাসজনিত রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। টিকাদানের ঘাটতি, অপুষ্টি এবং সাধারণ অসচেতনতার কারণে এটি যেকোনো সময় মহামারী রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

হাম কেন এখন বড় উদ্বেগ? (Why Measles is a Concern Now?)

বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (Immunization Program) থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় হামের প্রকোপ পুনরায় দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায় এবং অপুষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে এর জটিলতা অনেক বেশি হয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রাদুর্ভাব চলাকালীন প্রতি ১০০০ শিশুর মধ্যে ৫ থেকে ১৫ জন আক্রান্ত হতে পারে।

আরও পড়ুন:

সংক্রমণ ও প্রতিকার (Transmission and Prevention)

হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ যা আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে (Cough and Sneeze) ছড়ায়। এর ভাইরাস বাতাসে প্রায় ২ ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। এর থেকে সুরক্ষার উপায়গুলো হলো:

টিকাদান (Vaccination): হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এমএমআর (MMR Vaccine) টিকার ২ ডোজ নিশ্চিত করা।

আইসোলেশন (Isolation): আক্রান্ত শিশুকে অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন আলাদা রাখতে হবে এবং স্কুলে পাঠানো বন্ধ রাখতে হবে।

পরিচ্ছন্নতা (Hygiene): অন্তত ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং নিয়মিত ব্যবহৃত কাপড় ও বিছানা পরিষ্কার রাখা।

সঠিক পুষ্টিই দ্রুত সুস্থতার চাবিকাঠি (Nutrition for Measles Recovery)

হাম হলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি (Immune System) দুর্বল হয়ে পড়ে। দ্রুত সুস্থতার জন্য নিচের উপাদানগুলো খুব জরুরি:

  • ভিটামিন এ (Vitamin A): চোখ ও ইমিউনিটি সুরক্ষায়।
  • ভিটামিন সি ও জিঙ্ক (Vitamin C and Zinc): সংক্রমণ রোধ ও দ্রুত রিকভারিতে।
  • তরল খাবার (Fluids): পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন (Dehydration) রোধে প্রচুর পানি, ডাবের পানি ও ওআরএস (ORS) পান করাতে হবে।

আরও পড়ুন:

সারাদিনের আদর্শ খাদ্য তালিকা (Daily Diet Plan for Measles)

আক্রান্ত শিশুকে সারাদিন সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে:

  • সকাল: নরম খিচুড়ি, সেদ্ধ ডিম এবং ঘরে তৈরি মাল্টার জুস (Fresh Juice)।
  • দুপুর: পাতলা ঝোলে মাছ বা মুরগি, মুরগির স্যুপ (Chicken Soup) এবং গাজর বা কুমড়া।
  • বিকেল ও রাত: সাবুদানা, দুধের পুডিং, কাস্টার্ড অথবা মিক্সড ফলের সালাদ (Fruit Salad)। রাতে হালকা খিচুড়ি ও কুসুম গরম দুধ।

যা এড়িয়ে চলবেন (Foods to Avoid)

হাম আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে কিছু খাবার উপসর্গ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এগুলো বর্জন করুন:

১. ভাজাপোড়া ও ঝাল খাবার (Oily and Spicy Food): চিপস, চানাচুর বা ফাস্ট ফুড যা প্রদাহ বাড়ায়।

২. ঠান্ডা ও আইসক্রিম (Cold Foods and Ice Cream): এগুলো গলা ব্যথা ও কাশি বাড়াতে পারে।

৩. অতিরিক্ত মিষ্টি ও প্রসেসড খাবার (Sugary and Processed Foods): প্যাকেটজাত জুস বা চকলেট ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে।

৪. শক্ত খাবার (Hard to Digest Food): গরুর মাংস বা শক্ত ভাজা মাছ যা হজমে সমস্যা করে।

আরও পড়ুন:

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? (When to See a Doctor?)

যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট (Shortness of Breath) দেখা দেয়, টানা ৩ দিনের বেশি তীব্র জ্বর থাকে, খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দেয় কিংবা চোখ ফুলে যায়, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের (Consult a Physician) পরামর্শ নিতে হবে।

মনে রাখবেন, সচেতন পরিবারই পারে শিশুকে এই মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে। নিয়মিত টিকা দিন এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করুন।

আরও পড়ুন:

এসআর