হামের সংস্পর্শে এলে কী করবেন? সংক্রমণ ঠেকাতে যা করবেন

হামের সংস্পর্শে এলে করণীয়
হামের সংস্পর্শে এলে করণীয় | ছবি: এখন টিভি
0

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ (Highly contagious viral disease), যা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার ৭ থেকে ১৪ দিন পর শরীরে প্রকাশ পায়। তবে আশার কথা হলো, ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার পরেও কিছু বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংক্রমণের তীব্রতা কমানো সম্ভব।

একনজরে হামের লক্ষণ ও সময়রেখা (Timeline)

পর্যায় (Stage) সময়কাল (Duration) প্রধান লক্ষণ (Main Symptoms)
সুপ্তাবস্থা (Incubation) ৭ - ১৪ দিন কোনো বাহ্যিক লক্ষণ থাকে না
প্রাথমিক পর্যায় ১ - ৪ দিন তীব্র জ্বর, কাশি, সর্দি, কোপলিক স্পট
ফুসকুড়ি পর্যায় ৫ - ৭ দিন লালচে-বাদামী ফুসকুড়ি সারা শরীরে ছড়ায়
সংক্রমণ কাল ফুসকুড়ির ৮ দিন ফুসকুড়ি হওয়ার ৪ দিন আগে ও পরে সংক্রামক

আরও পড়ুন:

সংস্পর্শে আসার পর জরুরি করণীয় (Post-exposure steps)

যদি আপনি নিশ্চিত হন যে কোনো হাম আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এসেছেন, তবে দ্রুত নিচের পদক্ষেপগুলো নিন:

১. পোস্ট-এক্সপোজার টিকা (Post-exposure vaccination): সংস্পর্শে আসার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এমএমআর (MMR Vaccine) টিকা নিলে হাম প্রতিরোধ করা বা এর তীব্রতা কমানো সম্ভব। এটি বিশেষ করে ৬ মাসের বেশি বয়সী অ-টিকাপ্রাপ্ত শিশুদের জন্য জরুরি।

২. ইমিউনোগ্লোবুলিন ইনজেকশন (HNIG): যারা টিকা দেওয়ার জন্য খুব ছোট (৬ মাসের কম বয়সী), গর্ভবতী নারী বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে ৬ দিনের মধ্যে HNIG ইনজেকশন তাৎক্ষণিক সুরক্ষা প্রদান করে।

হাম যেভাবে ছড়ায় (Transmission of Measles)

হাম বিশ্বের অন্যতম সংক্রামক বায়ুবাহিত রোগ (Airborne disease)। এটি মূলত:

কাশি ও হাঁচি: আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাসের ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায়।

বায়ুতে স্থায়িত্ব: হামের ভাইরাস বাতাসে বা কোনো পৃষ্ঠতলে (Surface) প্রায় ২ ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

স্পর্শের মাধ্যমে: দরজার হাতল বা আসবাবপত্র স্পর্শ করে সেই হাত চোখে, নাকে বা মুখে দিলে সংক্রমণ হতে পারে।

আরও পড়ুন:

লক্ষণ চেনার উপায় (Common Symptoms)

হামের লক্ষণগুলো সাধারণ সর্দি-কাশির মতো শুরু হলেও দ্রুত গুরুতর রূপ নেয়।

প্রাথমিক লক্ষণ (Early Signs): তীব্র জ্বর (High fever up to 104°F), শুকনো কাশি, সর্দি (Coryza), চোখ লাল হওয়া এবং আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা (Photophobia)।

কোপলিক স্পট (Koplik spots): হামের বিশেষ লক্ষণ হলো মুখের ভেতরে গালের পাশে নীলাভ-সাদা ছোট দাগ দেখা দেওয়া।

ফুসকুড়ি (Rash development): লক্ষণ শুরুর ৩-৪ দিন পর কানের পেছন থেকে লালচে-বাদামী ফুসকুড়ি শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

সতর্কতা ও ঝুঁকি (Warnings and Risks)

টিকা না নেওয়া ৯০ শতাংশ মানুষই আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে সংক্রমিত হতে পারেন। হামের কারণে নিউমোনিয়া (Pneumonia), কানের ইনফেকশন বা মস্তিষ্কের প্রদাহের (Encephalitis) মতো জটিলতা হতে পারে। তাই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ (Consult a doctor) নেওয়া এবং টিকাদান নিশ্চিত করা জীবন রক্ষাকারী হতে পারে।

আরও পড়ুন:


এসআর