পাথুরিয়া গ্রামের চারদিকে শুধু পুকুর আর পুকুর। ধানের বদলে মাছ চাষ এখন গ্রামের মানুষের প্রধান পেশা। এক দশক আগে কার্প জাতীয় মাছ চাষে নতুন দিগন্ত শুরু হয়েছিল।
নাটোরকে শস্য ভাণ্ডার বলা হলেও গত কয়েক বছরে মাছ চাষে বদলেছে স্থানীয় অর্থনীতির চিত্র। ২০১৭ সাল থেকে জেলায় বেড়েছে মাছের চাষ। বর্তমানে অন্তত ৪০০ কোটি টাকার মাছ চাষ করছে স্থানীয় মৎস্য চাষিরা।
চাহিদার অতিরিক্ত কার্প মাছ উৎপাদন করে নানান সংকটে পড়ছেন চাষিরা। সঠিক বাজার মূল্য না পাওয়ার অভিযোগ তাদের। সে সঙ্গে রোগবালাই শনাক্তে আধুনিক ল্যাব, ফিস প্রসেসিং সেন্টার স্থাপন এবং রপ্তানিমুখী করার দাবি চাষিদের।
একজন মৎস্য চাষি বলেন, ‘মাছ যেভাবে কাঙ্ক্ষিত আশা নিয়ে উৎপাদন করি, বাজারজাত গিয়ে সেই পরিমাণ আশানুরূপ রেজাল্ট পাওয়া যাচ্ছে না। কোয়ালিটি মাছ যদি বিদেশে রপ্তানি করা যায়, তাহলে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা কিন্তু আয় করা সম্ভব।’
জেলার ৩১ হাজার ৩২০টি পুকুরে প্রতিবছর অন্তত ৮০হাজার মেট্রিক টন মাছের চাষ হচ্ছে। যার অর্ধেকই কার্প জাতীয় মাছ। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত মাছ রপ্তানিমুখী করতে নানা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে, নতুন নতুন বাজার খোঁজার চেষ্টা চলছে বলে জানান মৎস্য বিভাগের এ কর্মকর্তা।
মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘রপ্তানির ক্ষেত্রে তখন আমরা যেকোনো রপ্তানিকারক দেশ, তার আমদানিকারক দেশ তারা একটা পণ্য নিতে হলে আগে সেটার উৎস কোথায় সেটা জানতে চায়। সেই জায়গাটায় আমরা এখনো পৌঁছাতে পারি নাই, তবে আমরা আশা করছি যে আমরা সেই জায়গায় পৌঁছে যাবো।’
ফিস প্রসেসিংসহ মাছ রপ্তানিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেন মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘ফিশ প্রসেসিং সেন্টার এবং গবেষণা কেন্দ্র এবং এ মাছকে কীভাবে উন্নত করা যায়, সেই ব্যাপারে এখানে আমরা একটি প্রজেক্ট নেবো ইনশাআল্লাহ্।’
মাছকে শুধু খাবার হিসেবে নয়, নতুন দেশ খুঁজে রপ্তানিরযোগ্য করে তোলা গেলে বড় ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা আসার পাশাপাশি এ সেক্টরে প্রত্যক্ষ-প্ররোক্ষ ভাবে জড়িত লক্ষাধিক মানুষ তাদের আর্থ সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারবেন। যা ভূমিকা রাখবে স্থানীয় অর্থনীতিতে।





