গত জুন মাসে ওমান উপকূলে ‘ক্যারোলিন বেজেঙ্গি’ নামের একটি ট্যাঙ্কার দুর্ঘটনায় পড়ার পর থেকে তেল নিঃসরণ শুরু হয়। ওমান সরকারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত এই তেলস্তর প্রায় ৩৯০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে ছিল। তবে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে তেলস্তর বিশেষজ্ঞ জন আমোস জানিয়েছেন, বর্তমানে এই দূষণ ২ হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ বলছে, রাস মাদরাকা এলাকার প্রায় ৪০ কিলোমিটার উপকূল এবং মাসিরাহ দ্বীপ এই দূষণের শিকার হতে পারে।
রাশিয়া থেকে ভারত যাওয়ার পথে গত ৮ জুন শারবিথাত শহর থেকে প্রায় ৪১ কিলোমিটার দূরে জাহাজটিতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং ৩০ জুন এটি চড়ায় আটকে যায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, ট্যাঙ্কারটিতে প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল নিষিদ্ধ তেল ছিল। বর্তমানে ওমানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জের চারপাশে এই তেলস্তর ঘনীভূত হচ্ছে, যা বিরল সামুদ্রিক কচ্ছপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, ইয়েমেন উপকূল দিয়ে যাওয়ার সময় জুন মাসের শুরুতে জাহাজটিতে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটেছিল। তবে এই হামলার পেছনে কারা ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটি রাশিয়ার ‘ছায়া বহরের’ (শ্যাডো ফ্লিট) অংশ, যা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের পুরোনো জাহাজে যথাযথ বিমা বা নিরাপত্তা মান বজায় রাখা হয় না বললেই চলে।
পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস সতর্ক করে বলেছে, এই ঘটনা একটি ‘পরিবেশগত মহাবিপর্যয়ের’ দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ক্রিস্টোফার ডি'এলিয়া আল জাজিরাকে বলেন, এই অবৈধ ট্যাঙ্কারগুলো কোনো আন্তর্জাতিক নীতিমালা মানে না, ফলে পরিষ্কার করার খরচ বা দায় নেয়ার মতো কোনো পক্ষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
এদিকে বুধবার ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আলাদা একটি তেলস্তর দেশটির কেশম ও হেনগাম দ্বীপের সৈকতে পৌঁছেছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল ম্যানগ্রোভ বন হুমকির মুখে পড়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, দূষণের উৎস সম্ভবত একটি বিদেশি বাল্ক ক্যারিয়ার। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধের কারণে এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও তেল নিঃসরণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।





