ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তীব্র গ্যাস সংকট; প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

সড়কে অবরোধ করায় সৃষিট হয় তীব্র যানজট
সড়কে অবরোধ করায় সৃষিট হয় তীব্র যানজট | ছবি: এখন টিভি
0

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাসাবাড়িতে তীব্র গ্যাস সংকটে বাড়ছে ভোগান্তি। এছাড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। এতে করে তাদের রোজগারে টান পড়েছে।

এর প্রতিবাদে আজ (বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট) ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা।

দুপুর ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে এই অবরোধ করেন তারা। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গেল দুই সপ্তাহ ধরে ফিলিং স্টেশন ও বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংকট চলছে। পাইপলাইনে গ্যাস না পেয়ে বাসাবাড়িতে বন্ধ রয়েছে রান্নাবান্না। নিরুপায় হয়ে মাটির চুলায় রান্না সারছেন অনেকে। এতে করে আবাসিকসহ বাণিজ্যিক গ্রাহকেরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

এদিকে গ্যাসের সরবরাহ না পেয়ে সিএনজিচালিত আটোরিকশার চালকরা আঞ্চলিকসহ দূর পাল্লার যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন।

আরও পড়ুন:

জেলা শহরের মেড্ডা এলাকার বাসিন্দা শংকর দাস জানান, সকালে জরুরি কাজে আশুগঞ্জের কামাউড়ায় যান। শহরের কুমারশীল মোড় থেকে সরাইল-বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত সিএনজিচালিত অটোরকিশার জনপ্রতি ৫০ টাকা হলে আজ ৭০ টাকা দিতে হয়েছে তাকে। আসা-যাওয়ায় ৪০ টাকা বেশি ভাড়া লেগেছে বলে জানান তিনি।

অটোরিকশা চালক রাসেল মিয়া বলেন, ‘সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নাই। তাই ভাড়া বেশি নিতে হচ্ছে।’

সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়ার বাসিন্দা বশিরুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত ঘরের চুলায় কোনো গ্যাস সরবরাহ ছিল না। বিকেল ৪টার পর পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ হলেও চাপ কম ছিল।’

বাখারাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় আবাসিক গ্রাহকের সংখ্যা ২৩ হাজার ১৭৮ এবং ক্ষুদ্র কুটিরশিল্প ও রেস্তোরাঁসহ বাণিজ্যিক গ্রাহক ১৬১ জন। এসব গ্রাহকদের প্রতিদিন গড়ে তিন মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। যদিও চাহিদা রয়েছে প্রায় আট মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এর ফলে গ্রাহকদের চাহিদা মতো গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না পাইপলাইনে।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপ-মহাব্যবস্থাপক শফিকুল হক বলেন, ‘এলএনজি সমস্যার কারণে গতকাল (বুধবার, ১২ আগস্ট) থেকে জেলার কোথাও গ্যাস সরবরাহ কমেছে এবং কোথাও কোথাও গ্যাসের চাপ কমেছে। এই সমস্যা কবে নাগাদ শেষ হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’

এসএস