তবে রাঙামাটির সাজেকে তিন দিন ধরে আটকা পড়া ৫৬১ জন পর্যটকের মধ্যে সেনাবাহিনীর সহায়তায় দ্বিতীয় দফায় আজ (শুক্রবার, ১০ জুলাই) সকালে আরও ৩১১ জন গন্তব্যে ফিরে গেছেন।
এর আগে গতকাল (বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই) ফেরেন ১৫০ পর্যটক। তবে আরও ১০০ জন পর্যটক এখনও সাজেক আটকা রয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারাও ফিরে যাবেন গন্তব্যে। মূলত সাজেক-খাগড়াছড়ির দীঘিনালা সড়কের মাচালং, সীমানাছড়া, বাঘাইহাট বাজার ও কবাখালী এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বিচ্ছিন্ন হয়ে পর্যটকরা সাজেকে আটকা পড়েন।
এদিকে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে খাগড়াছড়ির মহালছড়ির মাইসছড়ি এলাকায় সড়ক তলিয়ে গিয়ে যান চলাচল বন্ধ হলেও পানি সরে যাওয়ায় আজ থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে বাঘাইছড়ি–মারিশ্যা–দিঘীনালা সড়কের তিন কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
আরও পড়ুন:
গেল (শনিবার, ৪ জুলাই) থেকে বৃষ্টি শুরু হলেও অতিবর্ষণ ও উজানের ঢলে বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে জেলার বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়তে শুরু করে। এরমধ্যেই বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়ে। সেখানে ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৩৬৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
এছাড়া সেখানকার ৭ হাজার পরিবারের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অভ্যন্তরীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পুকুর ও বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। স্থানীয় প্রশাসন থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণে কাজ করছে। পাহাড়ধস ও বন্যার আশঙ্কায় সেখানে ৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এছাড়া রাঙামাটিতে বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাঙামাটি সদর, কাউখালী, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, নানিয়ারচর ও বিলাইছড়ি উপজেলায় ছোটবড় ১২৫টি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে।
পাহাড়ধসের শঙ্কা ও নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকিতে থাকা, জেলার ৮ উপজেলার মধ্যে রাঙামাটি সদর, কাউখালী, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, রাজস্হলী, নানিয়ারচর, বিলাইছড়ি এবং দুই পৌরসভা রাঙামাটি ও বাঘাইছড়ি পৌর এলাকায় ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৩৬৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, জরুরি কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আশ্রকেন্দ্রে তিনবেলা খাবারসহ স্যানিটেশন, সুপেয় পানি প্রদান করা হচ্ছে। দুর্গতদের ত্রাণ সরবরাহ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে।





