
বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি; ৬ উপজেলায় বন্যার আশংকা
রাঙামাটিতে গেল দশ দিনের বৃষ্টিপাতে পাহাড়ধস আর উজানের ঢলে নিম্নাঞ্চলের আকস্মিক বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। তবে বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার কয়েকটি এলাকার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

রাঙামাটিতে কাটেনি পাহাড়ধসের শঙ্কা; আশ্রয়কেন্দ্রে ২৩৬৬ মানুষ
রাঙামাটিতে এখনো পাহাড়ধসের শঙ্কা কাটেনি। বৃষ্টি আর উজানের ঢলে বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এরইমধ্যে জেলার ৮ উপজেলা ও দুই পৌর এলাকায় ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৩৬৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন। জেলার ৬ উপজেলায় ছোটবড় ১২৫টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বৃষ্টির স্রোতে নিখোঁজ হয়ে জেলার মগবান ও বিলাইছড়ির ফারুয়ায় দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

ফের ছাড়া হলো কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৬ জলকপাট
কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় তৃতীয় দফায় ৬ ইঞ্চি করে ছাড়া হয়েছে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৬টি জলকপাট (স্পিলওয়ের গেট)। এতে সেকেন্ডে ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন হচ্ছে। বাঁধের উজানে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ (সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল তিনটায় গেটগুলো খুলে দেয়া হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীর পানি বেড়ে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল
উজানের ঢলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীতে বাড়ছে পানি। ফলে প্লাবিত হয়েছে জেলার পাঁচ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দি সদর উপজেলার নারায়নপুর, আলাতুলী, উজিরপুর, পাঁকা ও দূর্লভপুর ইউনিয়নের ১১ হাজার পরিবার, তলিয়ে গেছে প্রায় ৫০০ হেক্টর ফসলি জমি।

টানা বৃষ্টি-উজানের ঢলে ফেনীর বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, শতাধিক গ্রাম প্লাবিত
গত তিন দিনের টানা বৃষ্টি ও ভারতীয় উজানের ঢলে ফেনীর বন্যা পরিস্থিতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। মুহুরী, কহুয়া, সিলোনীয়া নদী তীরের ২২ স্থানে প্লাবিত হয়েছে শতাধিক গ্রাম। পানিবন্দী হয়ে আছে দেড় লক্ষাধিক মানুষ।

ফেনীতে বন্যার পানি নামলেও কমেনি দুর্ভোগ, বাঁধ মেরামতে কাজ করছে সেনাবাহিনী
টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলের পর ফেনীর নিম্নাঞ্চল থেকে নামতে শুরু করেছে বন্যার পানি। তবে এখনো কমেনি দুর্ভোগ। এরই মধ্যে মুহুরী নদীর বাঁধের ভাঙা অংশে জিও ব্যাগ ফেলে মেরামত করতে শুরু করেছে সেনাবাহিনী। অন্যদিকে, কুমিল্লায় গোমতী নদীর ঝুঁকিপূর্ণ ৮ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

ফের বন্যার আশঙ্কা, ফেনীতে বাঁধে ফাটল; পাউবোর বিরুদ্ধে অবহেলা-দুর্নীতির অভিযোগ
চব্বিশের ভয়াবহ বন্যার ৮ মাস না পেরোতেই ফের চোখ রাঙ্গাচ্ছে সীমান্তবর্তী ৩ নদী। ফেনীতে গেল বন্যায় ভেঙে যাওয়া বাঁধের বেশ কয়েকটি স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। প্লাবন ও বন্যার আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত পার করছেন নদীর তীরবর্তী লাখো মানুষ। বাঁধের কাজে অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিরুদ্ধে।

ভারি বৃষ্টিপাতে সিলেটে বন্যার আশঙ্কা
ভারি বৃষ্টিপাতে সিলেটে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৯৩ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সাথে মেঘালয় রাজ্যে প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং উজানের ঢলের কারণে পিয়াইন ও ধলাই নদেও বেড়েছে পানি।

শেরপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩২ হাজার হেক্টর জমির ফসল
ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় শেরপুরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩২ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমির ফসল। পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন। এবারের বন্যায় জেলার কৃষিখাতে ক্ষতি ৬শ' কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা কৃষি বিভাগের।

কাউনিয়ার একাধিক গ্রামে ভাঙন ঝুঁকি, আতঙ্কে হাজারো মানুষ
গতকাল (রোববার) থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় কমেছে তিস্তার পানি। পানি নামতে শুরু করায় বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। তবে কিছু জায়গায় উজানের পানির তোড়ে ভেঙেছে বসতভিটা। রংপুরের কাউনিয়ার কয়েকটি গ্রামে দেখা দিয়েছে ভাঙন ঝুঁকি। আতঙ্কে দিন কাটচ্ছেন হাজারো মানুষ। সংকট সমাধানে তিস্তা নদী খনন, শাসন ও তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের।

ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বিপৎসীমার ওপর তিস্তার পানি
ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বেড়েছে উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ নদ-নদীর পানি। রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে তিস্তার পানি। এরইমধ্যে পাঁচ জেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি। তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চলের কয়েক লাখ হেক্টর আবাদি জমি। এদিকে কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে বেড়েছে যমুনা নদীর পানি। যাতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরের বাসিন্দাদের মাঝে।

কুমিল্লায় বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বুড়িচং
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় কুমিল্লায় ৮২ হাজার ৭০৬ পরিবারের বসতঘরের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ৮ হাজার ৬২৫টি ঘরবাড়ি। এবারের বন্যায় জেলার ১৪ উপজেলা বন্যা কবলিত হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বুড়িচং উপজেলায়।