বন্যা-পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত বান্দরবান-কক্সবাজার, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

বান্দরবান ও কক্সবাজারে বন্যা
বান্দরবান ও কক্সবাজারে বন্যা | ছবি: এখন টিভি
0

বান্দরবানের লামা ও কক্সবাজারের চকোরিয়ায় পাহাড়ধসে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বন্যা কবলিত কয়েক জেলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ জনের বেশি। এদিকে প্রবল বৃষ্টিতে বান্দরবান, কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রামে বন্যায় পানিবন্দি লাখ লাখ বাসিন্দা। যোগাযোগ সমস্যায় অনেক জায়গায় ত্রাণ বিতরণ করা যাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক।

আজ (বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই) সকাল থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও টানা চার দিনের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পুরো চট্টগ্রাম অঞ্চল। পাহাড়ি ঢল ও নদ নদীর পানি বাড়ায় ডুবে গেছে বসতঘর, গ্রাম, সড়ক , রেলপথ ও ফসলি জমি। তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক।

হাটাহাজারী, রাউজান, বাঁশখালীসহ বিভিন্ন উপজেলার সড়কে পানি উঠায় বন্ধ হয়ে গেছে যান চলাচল। রেলপথ ডুবে যাওয়ায় বন্ধ আছে ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে রেল চলাচল। কোমর সমান পানিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অনেক স্থানে জাল দিয়ে মাছ ধরতে নামেন স্থানীয় জনতা।

পানিবন্দি হয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও হাটহাজারী উপজেলার চার লাখ মানুষ।

আরও পড়ুন:

বসতবাড়ি পানিতে ডুবে যাওয়ায় কাটে নির্ঘুম রাত। সংকট দেখা দিয়েছে সুপেয় পানি ও খাবারের। অনেকে আশ্রয়কন্দ্রে আশ্রয় নিলেও স্থানীয়দের অভিযোগ সরকারি কোনো ত্রাণ বা খাদ্য সহায়তা পাননি তারা।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘সবগুলো যুবে গেছে, আমাদের কেউ সাহায্য করে না, খবরও নেয় না। আমরা নিরুপায় হয়ে একজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।’

যদিও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক বলছেন, চট্টগ্রামে বন্যার্তদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। কিন্তু যোগাযোগ সমস্যার কারণে অনেক জায়গায় ত্রাণ বিতরণ করা যায়নি। পানিবন্দি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ত্রান বিতরণে ২০টি স্পিডবোট চেয়েছেন তিনি।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘এরইমধ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের জন্য ২০০ মেট্রিকটন চাল এবং ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। আর আজকেই প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা আমাদের বরাদ্দ দিয়েছে।’

আরও পড়ুন:

এদিকে সকাল ১০টার পর বৃষ্টি কমে আসায় চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও শুলকবহর , কাতালগঞ্জ ও আগ্রাবাদের নিচু এলাকা থেকে পানি না নামায় দুভোর্গে আছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘দোকানে পানি ঢোকায় সব বন্ধ করে রাখতে হয়েছে। মালসামানা সব ভিজে গেছে।’

অন্য একজন বলেন, ‘ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। অনেকে অসুস্থ, খাবার পাচ্ছে না।’

রাঙামাটিতে বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিতে থাকা রাঙামাটি পৌর এলাকা, বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি অন্তত সাত হাজার মানুষ। দ্বিতীয় দিনের মতে জেলায় বন্ধ রয়েছে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়।

আরও পড়ুন:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসে দুই কিশোর-কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন দেলোয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন দেলোয়ার বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে আমাদের উপজেলা প্রশাসন এবং সরকারের পক্ষ থেকে এসেছি, তাদের খোঁজ-খবর নিয়েছি। তাদের সমবেদনা জানিয়েছি। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার করে টাকা দিয়েছি। আর শুকনা খাবার দিয়েছি।’

‎এদিকে টানা বর্ষণের কারণে কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবকদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:

বান্দরবানে বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। লামার আজিজ নগরে পাহাড়ধসে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়। জেলার ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিয়ে নিয়েছেন। টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে শত শত বসতঘর, গ্রামীণ সড়ক ও কৃষিজমিতে পানি ঢুকে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বৈরী আবহাওয়া ও লাগাতার অতি ভারী বর্ষণের কারণে বান্দরবানে সব পর্যটন কেন্দ্র আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত পর্যটকদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এসএস