গতকাল (বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই) নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য রাষ্ট্রের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই নন-বাইন্ডিং ভোটাভুটিতে গ্রিনস্প্যান ১০টি ‘এনকারেজ’ বা উৎসাহব্যঞ্জক ভোট পেয়ে সবার ওপরে অবস্থান করছেন।
তার ঠিক পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রদ্রিগেজ-বার্কেট, যিনি পেয়েছেন ৯টি ভোট। এছাড়া তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন জাতিসংঘের পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান, আর্জেন্টিনার নাগরিক রাফায়েল গ্রসি; তার ঝুলিতে জমা পড়েছে সাতটি ভোট।
উল্লেখ্য, টানা দুই মেয়াদে সফলভাবে দায়িত্ব পালন শেষে চলতি বছরের শেষেই বিদায় নিচ্ছেন বর্তমান মহাসচিব পর্তুগালের আন্তোনিও গুতেরেস। দীর্ঘ ৮০ বছরের জাতিসংঘ ইতিহাসে এ পর্যন্ত কোনো নারী কিংবা ইহুদি পরিবারের সন্তান বিশ্ব সংস্থার এই শীর্ষ পদে আসীন হননি।
ফলে এবারের দৌড়ে কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান বা গায়ানার ক্যারোলিন রদ্রিগেজ-বার্কেটের মতো নারী নেতৃত্বগুলোর এই প্রাথমিক এগিয়ে থাকাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুন:
দায়িত্ব নেয়ার আগেই পরবর্তী মহাসচিবের সামনে অপেক্ষা করছে পাহাড়সমান চ্যালেঞ্জ। বিশ্বজুড়ে চলমান বহুমুখী সংকট, জাতিসংঘের নিম্নমুখী ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার, স্ফীত ও ব্যয়বহুল আমলাতন্ত্রের লাগাম টেনে ধরা এবং বিভিন্ন সংস্থায় কাজের দ্বৈততা দূর করে সংস্থাকে আরও গতিশীল করাই হবে নতুন নেতৃত্বের প্রধান অগ্নিপরীক্ষা।
নিরাপত্তা পরিষদের এই প্রাথমিক গোপনীয় ভোটে সদস্যরা প্রার্থীদের নামের পাশে ‘উৎসাহব্যঞ্জক’, ‘নিরুৎসাহিত’ কিংবা ‘মতামত নেই’ এই তিনটির যেকোনো একটি রায় দিয়ে থাকেন। প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, শীর্ষ অবস্থানে থাকা গ্রিনস্প্যান একটি ডিসকারেজ ও চারটি নো-অপিনিয়ন ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে, গায়ানার প্রার্থী রদ্রিগেজ-বার্কেট পেয়েছেন দু’টি ডিসকারেজ ও চারটি নো-অপিনিয়ন ভোট।
প্রতিযোগিতায় থাকা অন্য হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাচেলেট ছয়টি এনকারেজ ও পাঁচটি ডিসকারেজ, ইকুয়েডরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া ফার্নান্দেজা এসপিনোসা পাঁচটি এনকারেজ ও দু’টি ডিসকারেজ, সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সল ছয়টি এনকারেজ ও সাতটি ডিসকারেজ এবং উগান্ডার কূটনীতিক ওলারা ওটুননু দু’টি এনকারেজ ও পাঁচটি ডিসকারেজ ভোট পেয়েছেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রথম ধাপের এই ভোটাভুটিতে অভিন্ন ব্যালট পেপার ব্যবহৃত হওয়ায় নেতিবাচক বা ‘ডিসকারেজ’ ভোটগুলো নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনের (যাদের হাতে ভেটো ক্ষমতা রয়েছে) কার কাছ থেকে এসেছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।
আরও পড়ুন:
তবে পরবর্তী ধাপের ভোটগুলোতে ভিন্ন রঙের ব্যালট ব্যবহারের নিয়ম থাকায় তখন ভেটো ক্ষমতাধর দেশগুলোর আসল অবস্থান স্পষ্ট হবে।
এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়ালজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে প্রক্রিয়াটি এগোচ্ছে। ওয়াশিংটন এমন একজন মহাসচিব চায় যিনি বিশ্ব সংস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে যুগোপযোগী ও আরও বেশি কার্যকর করে তুলতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রাথমিক এই রাউন্ডে কোনো প্রার্থীর পক্ষেই বড় ধরনের ঐকমত্য বা সুস্পর্শ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখা যায়নি। ফলে আগামী সেপ্টেম্বর কিংবা অক্টোবর মাস পর্যন্ত একাধিক দফায় এই দরকষাকষি ও ভোটাভুটি চলার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের চূড়ান্ত সুপারিশের পর ১৯৩ সদস্যবিশিষ্ট সাধারণ পরিষদের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে কে হবেন জাতিসংঘের পরবর্তী কান্ডারি।

 Cadre Specialist Physician Forum forms a human chain-320x167.webp)



