যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চীনে পৌঁছাচ্ছে ইরানি তেল: নেপথ্যে মালয়েশিয়া উপকূল

ইরানি তেল বহনকারী জাহাজ
ইরানি তেল বহনকারী জাহাজ | ছবি: সংগৃহীত
0

নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেও ইরানি তেল চীনে পৌঁছানো ঠেকাতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের নির্দেশে তেহরানের বন্দর অবরোধ সত্ত্বেও মালয়েশিয়ার উপকূলীয় জলসীমায় জাহাজ থেকে জাহাজে স্থানান্তর করা হচ্ছে ইরানের তেল। মালয়েশিয়ার উপকূলে জাহাজ নোঙরের একটি বিশাল এলাকাকে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল বিক্রির প্রধান বাজার-হিসেবে চিহ্নিত করেছে আল জাজিরা। ইরান ছাড়াও যেখানে বিক্রি হচ্ছে নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল।

গেল সপ্তাহে ইরানের তেলবাহী ট্যাংকার 'হিউম্যানিটি' মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালী অতিক্রম করা পর মালয়েশিয়া উপকূলের উত্তর-পূর্ব দিকে মোড় নেয়। সেখানে পৌঁছে বন্ধ হয়ে যায় ট্যাংকারের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা।

স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং ডেটা থেকে দেখা গেছে, অপরিশোধিত তেলবাহী ইরানি ট্যাংকারটি মালয়েশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর সীমানায় প্রবেশ করে, যা উপকূল থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত হাজারের বেশি বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত একটি জলরাশি।

সমুদ্র নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দাবি, তেলের চালান খালাস করার সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে ইরানি ঐ ট্যাংকারটি। মালয়েশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর সীমানা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ইরানি তেল কিনছে চীন। রুশ এবং ভেনিজুয়েলার তেলের বাজার হিসেবেও জনপ্রিয় এই পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর সীমানা। ইউএস-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এভাবেই ইরানের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ চলে যায় চীনে।

স্যাটেলাইট ডেটা বিশ্লেষণ করে আল জাজিরা জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর পর গেল ৫ মাস ধরেই চালু আছে মালয়েশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর সীমানা। চলতি বছরে পারস্য উপসাগর, হংকং এবং উত্তর চীনের জলসীমায় এমন ৬২টি জাহাজকে শনাক্ত করেছে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দল। যদিও কাগজে কলমে এগুলোকে আনফিট বা অকার্যকর দেখানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:

শান্তি জলরাশির এই উপকূলে যুদ্ধের আগে থেকেও অনেক জাহাজ নোঙর করা থাকতো, এবং সেখানেও তেল স্থানান্তরের কাজ চলতো। বিশেষ করে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সরবরাহকারীদের কাছে তেল পৌঁছানোর জন্য এই সীমানা খুবই কাছাকাছি। এরআগে নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা দেশের জাহাজ চলাচল ও নোঙর বন্ধে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করেছে মালয়েশিয়া। কিন্তু আল জাজিরার এই অনুসন্ধান নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আল জাজিরার দাবি, গড়ে ২০০ জাহাজ নোঙর করা থাকে মালয়েশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর সীমানা, এর অর্ধেকের সাথেই ইরানের যোগসূত্র থাকতে পারে। চীন ইরানের তেল কেনার কথা স্বীকার না করলেও, ইরানি তেল পরিশোধিত হয় এমন ৫টি শোধনাগারে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর এর তীব্র বিরোধিতা করেছিল বেইজিং। চলতি সপ্তাহে যে ৬টি তেল ট্যাংকারের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ সেখানেও ছিল ইরানের তেল, যা যাওয়ার কথা ছিল চীনে।

ইএ