Recent event

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা; ৫৭৪ কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ চিহ্নিত

নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫৭৪টি ভোটকেন্দ্র
নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫৭৪টি ভোটকেন্দ্র | ছবি: এখন টিভি
0

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচন ঘিরে এবারও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলার ৮০৫টি ভোটকেন্দ্রের ৫৭৪টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে গ্রামাঞ্চলের বিবাদমান গোষ্ঠীগুলো ভোট নিয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষে দাঙ্গায় জড়াতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের ধামাউরা গ্রামে বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে গ্রামের সরু পথ চলতে মোটরসাইকেলই একমাত্র ভরসা। ২০১১ সালে মাত্র একটি কানের দুল চুরি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে গ্রামের গাজী ও বারী গোষ্ঠীর মধ্যে এক যুগ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন উভয় গোষ্ঠীর পাঁচজন। এবারের নির্বাচনে ধামাউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রটিকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। কেন্দ্রটিতে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা।

মূলত, আধিপত্য বিস্তার, জমি নিয়ে বিরোধ, গায়ে ধাক্কা লাগা কিংবা মাংসে হাঁড় বেশি দেয়ার মতো তুচ্ছ ঘটনায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ নিয়ে প্রায়ই খবরের শিরোনাম হয় সরাইল। এবার ভোটেও সহিংসতার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গোষ্ঠীগত দাঙ্গাগুলো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় অনেক সময়। এক প্রার্থী জিতলে আরেক প্রার্থী হারলে তার বাড়িতে হামলার মতো ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন:

সরাইল ও আশুগঞ্জ দাঙ্গাপ্রবণ দুই উপজেলায় প্রচারণায় এগিয়ে বিএনপির বহিস্কৃত নেত্রী রুমিন ফারহানা। তার সঙ্গে বিএনপির জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

শুধু সরাইল-আশুগঞ্জেই নয়, সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে নবীনগর ও বাঞ্ছারামপুরেও। এ দুই উপজেলায় অতীতের নির্বাচনগুলোতে সহিংসতার ঘটনা রয়েছে। জেলার ৮০৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৭৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান বলেন, ‘আমাদের যে কেন্দ্রগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সেখানে পুলিশ বেশি থাকবে। আর সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ থাকবে দু’জন আর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে থাকবে তিনজন।’

জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৮ জন প্রার্থী। মোট ভোটার সংখ্যা ২৬ লাখ ৮ হাজার ৮৭ জন।

জেআর