জুলাই থেকে সৌদি জাহাজ চলাচলে হুথিদের অবরোধ ঘোষণার পর থেকেই সমানে গোষ্ঠীটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করে যাচ্ছে সৌদি আরব। ইয়েমেনে সহিংসতা তীব্রতর হতে থাকার মধ্যেই, চলতি মাসের শুরুতে রাজধানীসহ ১১টি শহর ও অঞ্চলে বিপদসংকেত দিতে শুরু করে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী। বারবার বিপদসংকেত পেয়েছে অন্তত আটটি এলাকা।
সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, সামরিক ঘাঁটি ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হুথিদের হামলায় আহত হয় কমপক্ষে ৭৩ বেসামরিক নাগরিক। এমন পরিস্থিতিতেই শুক্রবার রাতভর রিয়াদ আর আল খার্জে পরপর দুইবার বিপদসংকেত জারি করে তা প্রত্যাহার করে সৌদি প্রশাসন।
এদিন, ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে ২৬ বার সৌদি আরব বিমান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে হুথি বিদ্রোহীরা। গত এক সপ্তাহের বেশি সময়ে এ সংখ্যা ৩০০ বেশি। সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকার জানায় ৩০ জন হুথি বিদ্রোহীকে হত্যার কথা।
ইয়েমেনর হুথি নেতা আব্দুল মালিক আল-হুথি বলেন, ‘অন্যায় আগ্রাসন ও অবরোধের সম্মুখীন হচ্ছে আমাদের জনতা। ১২ বছর ধরে এসব সহ্য করছি আমরা। কোনো অধিকার নেই, যৌক্তিকতা নেই। তাও যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে আর ইসরাইলের উসকানিতে এমন অন্যায়, নৃশংস ও আগ্রাসী আক্রমণ চালাচ্ছে সৌদি শত্রুরা।’
মধ্যপ্রাচ্যে বহুমুখী সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে তেল রপ্তানিতে অচলাবস্থার মুখে লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে, ৪১ দেশের সমর্থনে সমুদ্রে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বহুজাতিক নৌ প্রতিরক্ষা জোটের ১৪ দেশের সশস্ত্র বাহিনী। অংশ নিতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়নও।
বহুজাতিক নৌ প্রতিরক্ষা জোটের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ বিন সালেম আলশেহরি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক নৌ প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বাব আল-মান্দেব, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি ও প্রতিকূলতা প্রতিহত করা। স্বাধীন জাহাজ চলাচল, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিমালার সুরক্ষা, পণ্য সরবরাহ এবং পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা নিশ্চিত করবো আমরা।’
এদিকে, ইরানে ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৩৬০ কোটি ডলারে। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কাছে সরবরাহকৃত সবশেষ প্রতিবেদনে এ হিসাব দিয়েছে পেন্টাগন। ওয়াশিংটন পোস্টের শুক্রবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধের সাত মাসে প্রাণ গেছে ২৩ মার্কিন সেনার, যেখানে সরকারি তথ্যে এ সংখ্যা মাত্র চার। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিপাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘একটা বিষয় নিয়ে আমি খুব গর্বিত- ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। তবে এর জন্য মানুষকে কিছু অতিরিক্ত মূল্য দিতে হবে। গ্যাসের দাম কমানো বা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে দেয়ার মধ্যে যদি ভোট হয়, আমার মনে হয় যে বেশিরভাগ মানুষ ইরান ইস্যুর পক্ষে ভোট দেবে। মানুষ চায় না ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকুক এবং তা থাকবেও না। আর এই যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে। যুদ্ধ থামলে গ্যাসের দাম আগের পর্যায়ে বা তার চেয়েও বেশি কমে যাবে।’
এদিকে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে চীন। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠক সামনে রেখে বৃহস্পতিবার ফোনালাপ হয় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের।





