মানিকগঞ্জে ৩ মরদেহ উদ্ধার: পুলিশের ধারণা— স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার পর প্রবাসীর আত্মহত্যা

ঘটনাস্থলে পুলিশ ও স্থানীয়রা
ঘটনাস্থলে পুলিশ ও স্থানীয়রা | ছবি: এখন টিভি
0

মানিকগঞ্জে নিজ বাড়ি থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৫) ও দেড় বছর বয়সী কন্যা আলিজা নূরকে হত্যার পর সৌদি প্রবাসী একরাম হোসেন (৪২) আত্মহত্যা করেছেন।

আজ (শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহীরচর জান্নাকান্দি এলাকায় নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, প্রিয়াঙ্কা সিংগাইর উপজেলার দক্ষিণ এলাকার মোহাম্মদ মহসিন খানের মেয়ে। তিনি একরামের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে একরাম স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান। শনিবার বেলা বাড়লেও ঘরের দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। একরামের মা দরজার ফাঁক দিয়ে ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এসময় তারা তিনজনের মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একরাম সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটাতেন। এটি তার দ্বিতীয় বিয়ে। তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সৌদি আরব থেকে দেশে এসেছিলেন। দেশে ফেরার পর গত দুই মাস ধরে তাকে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হলেও তাদের পরিবারে কোনো অর্থনৈতিক সংকট ছিলো না বলেও জানান তারা।

প্রিয়াঙ্কার বাবা মোহাম্মদ মহসিন খান অভিযোগ করেন, তার মেয়ের সঙ্গে জামাতা একরামের কোনো সমস্যা ছিলো না। তার দাবি, একরামের বোনসহ পরিবারের কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

প্রিয়াঙ্কার ভাইয়ের অভিযোগ, তার বোন ও ভাগনিকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি আরও আগে ঘটলেও দুপুরের দিকে তারা খবর পান।

মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে একরাম তার স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যা করেছেন। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস নিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। একটি হত্যা মামলা এবং অপরটি আত্মহত্যার ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হিসেবে প্রক্রিয়া করা হচ্ছে।’

পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা ছিলো কি না, তা আরও স্পষ্ট হবে।

এসএইচ