ইরান-ইসরাইল ও মার্কিন সংঘাতের কারণে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এবং হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বাব এল-মান্দেব প্রণালি। এই অবস্থায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সরাসরি প্রণালির ভেতরে ঢুকতে ভয় পাওয়ায় ওমানের সোহার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর এখন তেল স্থানান্তরের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। হরমুজ প্রণালির বাইরে নিরাপদ এলাকায় সৌদি বা অন্যান্য দেশের ট্যাংকারগুলো অবস্থান নেয়। এরপর বিশেষ পাইপলাইন ও রাবার ফেন্ডার ব্যবহার করে পাশাপাশি দাঁড়ানো একটি জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল খালাস করা হয়। শনাক্তকরণ এড়াতে এসব জাহাজের ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়।
ট্যাংকার ট্র্যাকিং সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে ওমান উপকূলে প্রতিদিন গড়ে ৭১ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে হস্তান্তর করা হয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় ৫৬ শতাংশ বেশি। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকো ইতিমধ্যেই এশীয় শোধনাগারগুলোকে ওমানের সোহার বন্দর ব্যবহার করে বাড়তি তেল সরবরাহের আশ্বাস দিচ্ছে। সৌদি আরব ছাড়াও কুয়েত ও কাতারও মাঝে মাঝেই এই পথ ব্যবহার করছে।
তবে সমুদ্রের মাঝখানে অননুমোদিত এই তেল হস্তান্তর অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে বয়স্ক জাহাজ ব্যবহার, কারিগরি তদারকির অভাব ও বীমা না থাকার কারণে বড় ধরনের সংঘর্ষ বা পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বাণিজ্যিক বীমা কোম্পানিগুলো যুদ্ধের মধ্যে এই বিপজ্জনক কাজের দায়ভার নিতে চাইছে না। ফলে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোকে নিজস্ব রাষ্ট্রীয় তহবিলের ঝুঁকিতে এই সরবরাহ চালিয় যেতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যেভাবে এতদিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে গোপন ‘শ্যাডো ট্যাংকার’ কৌশল ব্যবহার করে তেল বিক্রি করত, আজ সংঘাতের কারণে আমেরিকা ও তার মিত্রদেরও একই কৌশল অবলম্বন করতে হচ্ছে। ঝুঁকি থাকলেও চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো বড় এশীয় দেশগুলোতে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আপাতত এই সমুদ্রপথই তাদের প্রধান আশ্রয় হয়ে উঠেছে।





