দুই মাসের মধ্যে ইরানের পতন; যুদ্ধ শেষের দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
0

মাস দুয়েকের মধ্যে ইরানের পতনের মধ্য দিয়ে থামবে যুদ্ধ; যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে মন্তব্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। যদিও মতপার্থক্যের জেরে হরমুজ ইস্যুতে স্থগিত হলো ইরান ও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক। ফের হোঁচট খেলো মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতি। বহুমুখী সংঘাত, তেলবাণিজ্যে জরুরি সমুদ্রপথে অচলাবস্থা আর সৌদি পাইপলাইনের বন্ধ দশায় শঙ্কা, বিদ্যমান মজুদে জ্বালানি রপ্তানি চলবে বড়জোর এক সপ্তাহ। অন্যদিকে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে সরকারি বাহিনী।

১২ বছরের গৃহযুদ্ধে এতটা সংঘাতময় পরিস্থিতি কমই দেখেছে ইয়েমেন।

হুথিদের দখলকৃত অঞ্চল পুনরুদ্ধারে অভিযান তীব্র করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী। এরইমধ্যে তাইজ অঞ্চলে কৌশলগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার দাবি ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর। ধুবাব, ওয়াজিয়া, হাইফান, আফাইরাসহ অন্যান্য এলাকায় চলছে হুথিবিরোধী অভিযান। হামলার জন্য মূলত হুথিদের গাড়িবহর লক্ষ্য করে আঘাত হানছে সেনারা।

অন্যদিকে কৌশল পাল্টে বাব আল-মান্দেব, মোখাসহ তাইজের পশ্চিমে নিম্ন উপকূলীয় এলাকা আর মারিবে হারানো অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের বদলে হাতে থাকা অঞ্চল ধরে রাখা এবং হুথিদের অগ্রসর ঠেকানোতেই গুরুত্ব দিচ্ছে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী। তেল-গ্যাসসমৃদ্ধ এসব অঞ্চল ইয়েমেন সরকারের রাজস্বের মূল উৎস। ফলে ইয়েমেনের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয়া ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী আর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি সরকারি বাহিনীর মধ্যকার লড়াইয়ে ২০১৪ সাল থেকেই অন্যতম যুদ্ধক্ষেত্র এসব অঞ্চল।

ইয়েমেনের মারিবের গভর্নর সুলতান আল-আরাদাহ বলেন, ‘উপকূলের পরিস্থিতিতে আমরা গভীরভাবে দুঃখিত ও ব্যথিত। কিন্তু যুদ্ধের প্রকৃতিই এমন; এতে উত্থান-পতন, অগ্রযাত্রা ও পশ্চাদপসরণের পাশাপাশি বহু আকস্মিক ঘটনাও ঘটে। তবে আমরা জনগণের সাথে আছি, রাষ্ট্র পুনরুদ্ধারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই চায় না- এমন এক বিদেশি শক্তির সঙ্গে যুক্ত মিলিশিয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে পবিত্র এ যুদ্ধ চলবে।’

আরও পড়ুন:

ইয়েমেন সরকারের মিত্র সৌদি আরবের জাজানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে হুথিরা। অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টায় ৫৮ দফা বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি সেনারা। হুথিদের হামলার ঝুঁকিতে নাজরান, জাজান, আভাসহ বিভিন্ন শহরে রোববার বিপদ সতর্কতা জারি করেও পরে আবার তা প্রত্যাহার করে রিয়াদ।

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকরে রোববার পর্যন্ত শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজকে পথ বদলাতে বাধ্য করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। এর আগে হরমুজ ইস্যুতে ওমানে অনুষ্ঠেয় ইরান ও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক স্থগিত হয়। কারণ হিসেবে ‘ঐক্যের অভাব’ বলছে মাস্কাট; তেহরান জানিয়েছে, কয়েকটি আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশের অনুরোধে আলোচনা স্থগিতের কথা। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতি আবারও হোঁচট খেলো, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এমন পরিস্থিতিতেও যুক্তরাষ্ট্র শর্ত না মানলে হরমুজ বন্ধ রাখার বিষয়ে অনড় ইরান। সংঘাতময় পরিস্থিতি, তেলবাণিজ্যে জরুরি সমুদ্রপথে অচলাবস্থা আর গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনের বন্ধ দশায় সৌদির শঙ্কা, বিদ্যমান মজুদে রপ্তানি চলবে আর বড়জোর পাঁচ থেকে সাতদিন। যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পরে ইরানের পতনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শেষ হবে, মন্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরেই ইরানের পতন হবে, হয়তো তার আগেও হতে পারে, কিন্তু মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরেই শেষ হবে। ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না, এবং তাদের পারমাণবিক অস্ত্র থাকবেও না। ইরান চুক্তির জন্য এতোটাই মরিয়া যে ক্রমাগত ফোন করছে, বলছে চুক্তি করতে চায়। আমি ভালো চুক্তি ছাড়া আর কিছুতে বিশ্বাসী নই।’

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় ধরনের পাল্টাপাল্টি সংঘাতে না জড়ালেও, সোমবার কয়েক দফা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে ইরানের দক্ষিণে সিরিক। একদিন আগেও কিশম দ্বীপ আর মিনাবও প্রাণঘাতী বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণের কারণ স্পষ্ট হয়নি।

এসএস