হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান

জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান
জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান | ছবি: এখন টিভি
0

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর বসতঘর গুঁড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। আজ (সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাঙামাটির একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ জানান ভুক্তভোগী পরিবারের আইনজীবী আব্দুল গাফফার মুন্না, ভুক্তভোগী সুখেন্দু বিকাশ ত্রিপুরার স্ত্রী নিলিমা ত্রিপুরা, বোন মিনু ত্রিপুরা, আত্নীয় তপতি মারমা ও সমাপ্তি চাকমা।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গতকাল (১৩ই সেপ্টেম্বর) হাইকোর্ট উচ্ছেদ অভিযানের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়া সত্ত্বেও তা অমান্য করে একইদিন অভিযান চালানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী আপিল খারিজের পর তিন মাসের সময় দেয়ার বিধান থাকলেও তা মানেনি স্থানীয় প্রশাসন।

১৯৮৩ সালে সরকারি খাস জমিতে ঘর তুলে বসবাস শুরু করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী সুখেন্দু বিকাশ ত্রিপুরা। কিন্তু চার দশক পর, আইনের আদেশ ও নিয়মকে তোয়াক্কা না করেই গুঁড়িয়ে দেয়া হয় তার বসতঘর।

ভুক্তভোগী সুখেন্দু বিকাশ ত্রিপুরার স্ত্রী নিলিমা ত্রিপুরা বলেন, আকস্মিকভাবে এসেই বেআইনিভাবে উচ্ছেদ চালিয়েছে প্রশাসন। আমাদের প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমাদের বসতবাড়ি ফেরত চাই।

আত্মীয় সমাপ্তি চাকমা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী রায় খারিজ হওয়ার পর সরে যাওয়ার জন্য অন্তত ৩ মাসের সময় দেওয়ার বিধান থাকলেও কোনো সুযোগই দেয়া হয়নি। দেয়া হয়নি উচ্ছেদ নোটিশও।

ভুক্তভোগী পরিবারের আইনজীবী আব্দুল গাফফার মুন্না বলেন, আদালতের আদেশ অমান্য করে বেআইনিভাবে বসতবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছে। বুলডোজার দিয়ে জোরজবরদস্তি করে তাড়িয়ে দেয়ার মতো অমানবিক কোন কাজ হতে পারে না। আমরা ক্ষতিপূরণ দাবিসহ উচ্চ আদালতে যাবো।

মূলত সরকারি খাস জমি ও উচ্ছেদ নোটিশ বাতিল নিয়ে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে দায়ের করা দুটি আলাদা মামলায় (সিভিল মামলা নং-৩৯৬/১৪ এবং ২৪৩/১৫) আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিল পরিবারটি। পরবর্তীতে চলতি ২০২৬ সালের ৫ই মে নিম্ন ও জেলা আপিল আদালতের রায়ে মামলা খারিজ হয়ে সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত আসে।

ইএ