বর্ষার শুরুতেই চট্টগ্রামে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু। মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বেড়েছে চারগুণের বেশি। মে মাসে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৭ সেখানে চলতি মাসের অর্ধেকটা সময়ে আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ১৭৪।
পরিসংখ্যান বলছে, গেল বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৮৬৪ জন। ওই বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুবরণ করেন ২৭ জন। ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু দেখা যায় ২০২৩ সালে। ওই বছর আক্রান্তও ছাড়িয়েছিল ১৪ হাজার ৮৭ জন। চলতি বছর জুলাইয়ের ১৪ তারিখ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ৪৭২। একইসময়ে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের।
চিকিৎসকরা বলছেন, অধিকাংশ রোগীই জ্বর, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন। এছাড়া কেউ কেউ শক সিন্ড্রোম যেমন রক্তক্ষরণ, লো প্রেশার, ডায়রিয়া নিয়ে আসছেন। উপসর্গ দেখে তাদের চিকিৎসা চলছে।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী বলেন, ‘ডেঙ্গু এবং মিজেলস যেহেতু দুইটাই ভাইরাসজনিত রোগ, দুইটাতেই জ্বর নিয়ে শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রে আসলে আলাদা করা মুশকিল হতে পারে। ডেঙ্গুতেও কিন্তু র্যাশ দেখা যায় যেটা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।’
আরও পড়ুন:
গেল মাসে চট্টগ্রামে বিশেষ জরিপ করে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ। এতে নগরীতে ডেঙ্গুর আটটি ওয়ার্ডকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই সব এলাকার বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভা যেমন বেশি পাওয়া গেছে তেমনি আক্রান্তের সংখ্যাও বেশি।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মোবাইল কোর্ট করে মানুষকে সতর্ক সতর্ক করা বা মানুষকে যাতে জরিমানা আনা যায় সেইভাবে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি আমরা। তবে আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা মানুষকে সচেতনতা দিচ্ছি, লিফলেট বিতরণ করছি এবং হটস্পটগুলোতে বেশি বেশি করে ওষুধ ছিটানোর জন্য আমরা আমরা পরামর্শ দিচ্ছি।’
এমন অবস্থায় স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ, হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু ওয়ার্ড বা কর্নার স্থাপনসহ বিশেষ প্রস্তুতির কথা জানাচ্ছে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বী বলেন, ‘হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু কিটস আমরা রেখেছি এবং আমাদের ডেঙ্গু চিকিৎসায় যে আইভি ফ্লুইডগুলি ব্যবহৃত হয় সেগুলোও আমরা আমরা মজুদ করেছি। পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ড খোলা হয়েছে।’
প্রতি বছর জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু সংক্রমণের হার বেশি থাকে। পুরো বছরের আক্রান্তের ৮০ থেকে ৯০ ভাগ এই সময়টায় আক্রান্ত হন।





