চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল। প্রতিদিন এখানে ভর্তি থাকেন প্রায় ৫০০ রোগী। রোগীর চাপের তুলনায় চিকিৎসক সংকট দীর্ঘদিনের। এরই মধ্যে সম্প্রতি সাতজন চিকিৎসক বদলি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে সীমিত জনবল নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। আর চিকিৎসাসেবা পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে রোগীদের।
রোগীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘চিকিৎসক আগেও কম ছিল, এখন তো বদলি হওয়ার কারণে আরও অনেক কমে গেছে।’
অন্য একজন বলেন, ‘এক জায়গাতে লাইন ধরলাম পাইলাম না, ফের এখানে আসছি। আবার দাঁড়িয়ে আছি ওখান থেকে লাইন ধরে, অনেকক্ষণ থেকে দাঁড়িয়ে আছি।’
মেডিসিন, সার্জারি ও শিশু বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে জটিল রোগীদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের খোঁজে দুই-তিন দিন ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা পাচ্ছেন না অনেক রোগী।
আরও পড়ুন:
রোগীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ডাক্তার কম থাকার কারণে আমাদের অসুবিধা হয়েছে, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কালকে আসছিলাম বলছে আজকের কথা, আজ আবার আসছি বলে আগামীকালের কথা।’
দ্রুত শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগ না হলে স্বাস্থ্যসেবা সংকট আরও তীব্র হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের দাবি সুজনের নেতাদের। অন্যদিকে শূন্য পদে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সুশাসনের জন্য নাগরিকের সভাপতি আসলাম কবির বলেন, ‘সাধারণ রোগীদের যে ভোগান্তি হচ্ছে এটার জন্য স্বাস্থ্য প্রশাসনের যারা কাজ করছেন তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সাধারণ মানুষ যেন এই ভোগান্তিতে না পড়ে, এজন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে আমি মনে করি।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যার হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মাহবুব হাসান বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন অফিসগুলোতে আমরা প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছি আমাদের তত্ত্বাবধায়ক মহোদয়ের মাধ্যমে এবং নতুন বিসিএস বা অনেক সময় দেখা যায় যে যারা এখান থেকে কোর্সে গিয়েছিলেন, হয়তো কোর্স শেষ হয়েছে অথবা পাশ করতে পারেননি, ওই চিকিৎসকগুলোকে আবার ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
হাসপাতালটির অনুমোদিত ৮৫টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে ৪৭টি পদই শূন্য। সবচেয়ে বেশি সংকট মেডিসিন, সার্জারি ও শিশু বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের।





