ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, দেশটির দক্ষিণ উপকূলজুড়ে হরমুজ প্রণালি থেকে ওমান উপসাগর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে হামলা হয়েছে। হামলার শিকার স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের বৃহত্তম বন্দর এবং নৌবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার শহর বন্দর আব্বাস।
এছাড়াও পাকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন উপকূলীয় শহর কোনারাক ও চাবাহারেও হামলা হয়েছে। স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থার বরাতে মেহর নিউজ জানিয়েছে, হামলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর চাবাহারের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমগুলো আরও জানিয়েছে, চাবাহারের একটি সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারেও হামলা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ইরানশাহর শহরের বিমানবন্দরে হামলায় এক দমকলকর্মী নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের উত্তরাঞ্চলে আককালা শহরের কাছে একটি রেলসেতুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রেস টিভি।
এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখতে তারা ইরানে নতুন করে হামলা চালাচ্ছে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানায়, বুধবার রাতের হামলার তুলনায় সবশেষ হামলার পরিধি আরও বড় হবে।
সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার ফলে গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারককে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রূপ দেয়ার আশা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘গতকাল ইরানের জাহাজে বোমা হামলার জবাব হিসেবেই এটি করা হয়েছে। আবার এমন হলে এর পরিণতি আরও ভয়াবহ হবে।’
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার ঘনিষ্ঠ নুরনিউজ এক সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, তেহরান শিগগিরই এ অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ‘বড় ধরনের হামলা’ চালাবে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাও একই ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এর আগে বুধবার ইরান জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামোতে হামলার জবাবে তারা বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলা ছিল জাহাজে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে।





